ধুন্ধুমার যুদ্ধে জেরবার মধ্যপ্রাচ্য। তবু মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলার জবাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যেভাবে বেপরোয়া আক্রমণ শুরু করেছিল ইরান, তার ঝাঁজ অনেকটাই কমেছে। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পৌঁছতেই দেখা যাচ্ছে আগের চেয়ে ৯০ শতাংশ কম ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি, তারা সেদেশের ৭৫ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তেহরান তা মানছে না। তারা জানিয়েছে অন্য 'গেমপ্ল্যানে'র কথা।
আইআরজিসির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সইদ মাজিদ মৌসভি আমেরিকা-ইজরায়েলের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই বিষয়টা একান্তই রণকৌশল। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''এখন থেকে আর এক টনের চেয়ে হালকা যুদ্ধাস্ত্র-সহ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। হামলার ঝাঁজ বাড়ানো হবে। তাদের পরিধি প্রসারিতও হবে।'' পাশাপাশি তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ঘাঁটিতে আরও তীব্র হামলা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
তবে ইরান এমন বললেও এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় তাদের ভাঁড়ারে এখনও কত মিসাইল রয়েছে। প্রাক্তন তুর্কি কূটনীতিক সিনান উলগেনের মতে, ইরান আসলে সতর্ক থাকতে চাইছে। যুদ্ধ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে হিসেব করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েই লড়াইয়ে টিকে থাকতে চাইছে তেহরান।
এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে। জানান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ অভিযান সাফল্য পেয়েছে। যুদ্ধের অনেকটাই জিতে ফেলেছে দুই দেশ। কিন্তু এই ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরেই আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা এখনও যুদ্ধ জেতেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে চলছে চর্চা। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ এখনও মেলেনি। এর মধ্যেই আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন সেনা।
