১৬৫ বছরের প্রথা ঘুচিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এবার থেকে মার্কিন ডলারে থাকবে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। আমেরিকার ডলার বিলে এতদিন পর্যন্ত থাকত সেদেশের ট্রেজারারের সই। সঙ্গে থাকত মার্কিন অর্থসচিবের স্বাক্ষরও। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই নিয়ম বদলে দিলেন ট্রাম্প স্বয়ং। প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে কুর্সিতে থাকাকালীনই জায়গা করে নিলেন আমেরিকার ডলার বিলে। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, ডলার বিলে ট্রাম্পের ছবি থাকলেই আমেরিকার সাফল্য এবং শক্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা যাবে।
চলতি বছরের ৪ জুলাই ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস পালন করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতার বহু পরে আমেরিকায় শুরু হয় ডলার বিল ছাপা। গত ১৬৫ বছর ধরে ট্রেজারার এবং অর্থ সচিবের সই থাকত মার্কিন নোটে। কিন্তু স্বাধীনতার আড়াইশো বছর পূর্তি উপলক্ষে সেই প্রথা ভেঙে দিলেন ট্রাম্প। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নোটে এবার থেকে প্রেসিডেন্টের সই থাকবে। সেই সঙ্গে থাকবে রাজস্ব সচিবের সই। গোটা ঘটনায় ট্রাম্পের তরফে প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি। তবে এই প্রথমবার মার্কিন নোটে থাকতে চলেছে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সই।
বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ দপ্তরের তরফে অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, "আমাদের দেশের বহু ঐতিহাসিক সাফল্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও বহু কৃতিত্ব রয়েছে। এগুলোকে সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার জন্য নোটে সই রাখার থেকে বড় উপায় আর কিছু হতে পারে না। মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষই নতুন নোট আত্মপ্রকাশ করার একেবারে উপযুক্ত সময়।" মার্কিন নোটে যাঁর সই করার অধিকার (মার্কিন ট্রেজারার) ছিনিয়ে নেওয়া হল, সেই ব্র্যান্ডন বিচ বলছেন, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু হবে ট্রাম্পের সই-সহ নতুন নোট ছাপার কাজ। প্রথমে ১০০ ডলারের বিল ছাপানো হবে। কেবল তাই নয়, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি দেওয়া ২৪ ক্যারাটের সোনার কয়েনও তৈরি হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে আমেরিকায় ব্যবহৃত ডলার বিলে রয়েছে জো বাইডেন জমানার অর্থ সচিব জ্যানেট ইয়েলেন এবং ট্রেজারার লিন মালেরবার সই। পরবর্তী ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচের সই আর জায়গা পেল না মার্কিন নোটে।
