দীর্ঘ দিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে চিন। সংশ্লিষ্ট দ্বীপটিকে স্বাধীন দেশ বলে মানতে নারাজ বেজিং। মধ্যপ্রাচ্যের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন ফের শিরোনামে চিন-তাইওয়ান। আমেরিকা ব্যস্ত রয়েছে ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে। গুঞ্জন, এই পরিস্থিতি কাজে লাগাতে চাইছে লালফৌজ! কিন্তু সেজন্য কোনও নাটকীয় যুদ্ধ নয়, বরং অন্য কৌশল কাজে লাগাতে চাইছে বেজিং। যে কৌশলের নাম 'অ্যানাকোন্ডা কৌশল'। যার সাহায্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ না করেই তাইওয়ানকে দুর্বল করে দখল করে নেওয়া সম্ভব হবে!
ঠিক কী এই 'অ্যানাকোন্ডা কৌশল'? এক্ষেত্রে অ্যানাকোন্ডার স্বভাব স্মরণ করা যেতে পারে। অতিকায় সাপটি তার শিকারকে একবারে খতম করে না। বরং ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যখন 'দমবন্ধ' হয়ে যায় শিকারটির। ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানসিক- সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে দেওয়াকেই 'অ্যানাকোন্ডা কৌশল' বলে। চিনও অবিকল এই কৌশলই প্রয়োগ করতে চাইছে। আইডিয়াটা সরল হলেও মারাত্মক কার্যকর। তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের জীবনকে ভয়ানক করে তোলো। তাঁদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দাও, সমস্ত সম্পদ নিঃশেষ করে যাবতীয় প্রতিরোধকে অর্থহীন করে তোলো। এতে হয়তো সরাসরি যুদ্ধের মতো তাৎক্ষণিক ফল মিলবে না। কিন্তু ফল মিলবে অব্যর্থ। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অ্যানাকোন্ডা তার শিকারকে একবারে খতম করে না। বরং ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যখন 'দমবন্ধ' হয়ে যায় শিকারটির। ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানসিক- সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে দেওয়াকেই 'অ্যানাকোন্ডা কৌশল' বলে।
প্রায়ই তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালায় লালফৌজ। প্রশান্ত মহাসাগর হোক বা আকাশসীমা, লাগাতার চলছে আতঙ্কে রাখার খেলা। কিন্তু এমন ভয় দেখানোর প্রক্রিয়া যখন চলতেই থাকে, তখন তা 'নিউ নর্মাল' হয়ে ওঠে। দেশের সীমান্তে (আকাশপথেও) চিনা সেনার উপস্থিতি যেন স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে তাইওয়ানের। এতে নিরাপত্তার অভাবজনিত ভয় যেন অভ্যাস হতে হতে স্বাভাবিক হয়ে যায়। পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে সাইবার আক্রমণ, ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলও নিয়েছে চিন। অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলো এই চাপের আরেকটা স্তর গঠন করে। চিনের এমন ক্ষমতা রয়েছে যে, তারা বাণিজ্যপথগুলো ব্যাহত করতে পারে, আমদানি সীমিত করতে পারে এবং তাইওয়ান প্রণালীর উভয়প্রান্তে কর্মরত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরে চাপ প্রয়োগ করতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের উপরে তাইওয়ানের অত্যধিক নির্ভরতার পরিপ্রেক্ষিতে, এমন পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী পরিণতি দেখা দিতে পারে। সব মিলিয়ে এতগুলি কৌশলের সম্মিলিত চাপে তাইওয়ানের 'দমবন্ধ' করে দিতে মরিয়া জিনপিং প্রশাসন। তবে এর জন্য তাড়াহুড়ো না করে 'ধীরে চলো' নীতিই নিয়েছে তারা।
ক্রমান্বয়ে সাইবার আক্রমণ, ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলও নিয়েছে চিন। অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলো এই চাপের আরেকটা স্তর গঠন করে। চিনের এমন ক্ষমতা রয়েছে যে, তারা বাণিজ্যপথগুলো ব্যাহত করতে পারে, আমদানি সীমিত করতে পারে এবং তাইওয়ান প্রণালীর উভয়প্রান্তে কর্মরত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরে চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
এপ্রসঙ্গে একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে। চিন কি এমন কৌশল ভারতের উপরে প্রয়োগ করতে পারে কখনও? জবাব হল, না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক কৌশল, আর্থিক পদক্ষেপ ও সীমান্তে সমস্যা সম্পর্কে অবগত থাকার ফলে কখনওই বেজিং এমন কৌশল প্রয়োগের কথা ভাবতেও পারে না। এখন দেখার, তাইওয়ান চিনের 'ফাঁস' থেকে বেরতে পারে কিনা?
