যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও এখনও দ্বিতীয় দফার আলোচনার টেবিলে বসেনি ইরান। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেনাকে নির্দেশ দিলেন, 'কোনও দ্বিধা নয়, হরমুজে ইরানি জাহাজ দেখামাত্রই তা যেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়।' পাশাপাশি ইরানের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, 'শান্তি আলোচনার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।' শুধু তাই নয়, ইরানে পরমাণু হামলা চালানো হবে কি না সে বিষয়েও মুখ খুললেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে সামনে এল যখন আরব সাগরে এসে পৌঁছেছে আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী জর্জ ডব্লু বুশ। এই নিয়ে হরমুজের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী। মার্কিন অবরোধের পালটা ইরান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ। বন্ধ হরমুজের চাবি খুলতেই কোমর বেঁধে প্রস্তুত হয়েছেন ট্রাম্প। এই অবস্থাতেই সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, "আমি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি হরমুজের জলে মাইন পাতা যে কোনও ইরানি জাহাজ দেখামাত্রই যেন ধ্বংস করা হয়। এই ব্যাপারে যেন কোনওরকম দ্বিধা না করা হয়।" পাশাপাশি ট্রাম্প আরও লেখেন, আমাদের মাইন সুইপারগুলি হরমুজে পেতে রাখা মাইন পরিষ্কার করছে। সেই কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং তিনগুণ বর্ধিতমাত্রায় কাজ চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
ট্রাম্প সেনাকে নির্দেশ দিলেন, 'কোনও দ্বিধা নয়, হরমুজে ইরানি জাহাজ দেখামাত্রই তা যেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়।'
ইরান যদি আলোচনায় বসতে টালবাহান করে সেক্ষেত্রে বিরাট হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্বের সময় পড়ে আছে, কিন্তু ইরানের হাতে নেই… টিকটিক করে দৌড়চ্ছে ঘড়ি।’ ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সত্যিই এবার পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করবেন ট্রাম্প? সেই সংশয় অবশ্য দূর করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছেন, ”আমরা কেন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে যাব? না, আমি সেসব ব্যবহার করতে চাই না। কারওই পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করার অধিকার নেই। আমরা একেবারে প্রথাগত যুদ্ধেই ওদের পরাস্ত করেছি।”
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় শান্তি বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইসলামাবাদেই তা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, বৈঠকে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্পও। কিন্তু বেঁকে বসেছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “দ্বিতীয় শান্তি বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” ফলে শান্তি বৈঠকে ইরানের যোগদান এখনও অনিশ্চিত। এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ইরানের উপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া।
