shono
Advertisement
Iran–Israel–US War

খামেনেইয়ের গোটা পরিবারই শেষ! মার্কিন-ইজরায়েলি হানায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার স্ত্রীও নিহত, জানাল ইরান

আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিমান হামলায় শনিবার নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। প্রাণ গিয়েছিল তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতনিরও। সোমবার খামেনেইয়ের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানাল ইরান।
Published By: Saurav NandiPosted: 07:33 PM Mar 02, 2026Updated: 07:57 PM Mar 02, 2026

আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিমান হামলায় শনিবার নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। প্রাণ গিয়েছিল তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতনিরও। সোমবার খামেনেইয়ের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানাল ইরান।

Advertisement

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হানায় খামেনেইয়ের স্ত্রী মনসুরেখ খোজাস্তে বাঘেরজাদে-ও গুরুতর জখম হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সাত-সকালে একের পর ক্ষেপণাস্ত্র হানায় কেঁপে উঠেছিল ইরানের রাজধানী তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকা। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের এই যৌথ হানার মূল লক্ষ্য ছিলেন খামেনেই। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারি ভাবে বিবৃতি দিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।’’ এর পর রবিবার ভোর নাগাদ সামনে আসে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট। সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম মানুষগুলোর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ...চেষ্টা করেও উনি আমাদের গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে পারেননি।’’

অবশেষে রবিবার ইরানের তরফেও স্বীকার করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার কথা। খামেনেইয়ের উপর এ হেন হামলাকে ‘বড় মাপের অন্যায়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খামেনেইয়ের পর দেশের অন্তর্বর্তিকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আলিরেজা আরাফিকে। তিনি ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এ ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। ইরানের শিক্ষা দপ্তরের প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। আপাতত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব-পরিষদের মাথায়
থাকবেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে— তেহরানে নিজের বাসভবনেই যে খামেনেই রয়েছেন, সেই খবর ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ বাহিনীর কাছে পৌঁছল কী ভাবে? এ ক্ষেত্রে সামনে আসছে দু’টি তত্ত্ব। একটি সূত্র জানাচ্ছে, এলাকায় খামেনেইয়ের বাসভবনটি অবস্থিত, সেই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরাগুলিকে ‘হ্যাক’ করেছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। অন্য সূত্রটি জানাচ্ছে, শনিবার সকালে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে খামেনেই পৌঁছতেই হামলা চালায় ইজরায়েল। অনুমান, বৈঠকে আমন্ত্রিত কোনও আধিকারিক কিংবা আবাসনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনও কর্মী সর্বোচ্চ নেতার আগমনের খবর ইজরায়েলের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়ে থাকতে পারেন। ইজরায়েল সেনার একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে যোগ দিতে খামেনেইয়ের হাজির হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যায়। শেষ মুহূর্তে তিনি সকালেই পৌঁছন। আর সেই খবর মিলতেই দ্রুত হামলার অনুমতি দেন নেতানিয়াহু। সৌদির পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে ট্রাম্পের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখা ছিল বলে দাবি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement