কুয়েতের মাটিতে আছড়ে পড়ছে অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ (F-15 Crash)। সোমবার সকালে এই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়। বেলা গড়াতেই আমেরিকা জানাল, ইরানের হামলায় নয়, ভুল করে কুয়েতের সেনা তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে। যদিও তিনটি এফ-১৫-এর পাইলট বিমান ধ্বংসের আগেই সুরক্ষিত ভাবে অবতরণ করেন। তাঁরা সুস্থ আছেন।
আমেরিকার যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’। যেখানে দেখা গিয়েছিল, মাঝ আকাশে বিস্ফোরণ ঘটেছে মার্কিন যুদ্ধবিমানে। এরপর আকাশে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে চক্কর খেতে খেতে মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এই সময়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন পাইলট। প্রাথমিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনও পক্ষই বিবৃতি দেয়নি। এবার পেন্টাগন দাবি করল, ভুলবশত নিজেদের বিমানেই হামলা চালিয়েছে মিত্রপক্ষ। যার জেরে এই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। পালটা জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালায় ইরান সেনা। কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সেইমতো রবিবার হামলা চলে আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী আক্রাহাম লিঙ্কনের উপর।
আমেরিকার রণতরীতে হামলা চালানোর দাবি করে রবিবার এক বিবৃতিও পেশ করেছিল ইরান রিভলিউশনারি গার্ড। যেখানে বলা হয়েছে, “আমরা আমেরিকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিঙ্কনে ৪ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছি।” পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, মাটি, সমুদ্র এবং আকাশ সর্বত্র সন্ত্রাসী হামলাকারীদের কবর খোঁড়া হবে। তবে ইরানের তরফে হামলার দাবি করা হলেও, আমেরিকা এ বিষয়ে এখনও কোনও শব্দ খরচ করেনি। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও এখনও বিশদে কিছু জানা যায়নি। এবার জানা গেল যুদ্ধের জেরে ভেঙে পড়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫।
