শান্তিচুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। যদি তা ভেস্তে যায়, তাহলে এবার ওদের মাথায় বোমা ফেলব।বুধবার জি৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই হুমকির পরই ফের আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান-আমেরিকার মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। তার দু'দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটা একটা সমঝোতা স্মারক মাত্র। যদি আমার এটা পছন্দ না হয়, যদি ইরান সঠিক আচরণ না করে, তাহলে এবার ওদের মাথায় বোমা ফেলব। গুলি চালাব। কারণ, গত ৪৭ বছর ধরে ওরা দুর্ব্যবহার করে আসছে।" তিনি আরও বলেন, "বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বা দু'দিনের মধ্যে এই পথ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা শান্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি ১৪টি বিষয়ের উপর ভার্চুয়ালি একটি মউ স্বাক্ষর হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। হরমুজ থেকে অবরোধ তুলবে আমেরিকা। ইরানও হরমুজ খুলে দেবে। সরবে ইরানের জাহাজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরানো হবে। ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে। ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সেনা প্রত্যাহার। তবে চুক্তির একেবারে শেষ অংশে ঠাঁই পেয়েছে ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গ। যেখানে বলা রয়েছে, ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হবে ওই বোমার উপকরণের ভবিষ্যৎ কী হবে।
