ইরানের দেওয়া নয়া শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের ঘনাতে শুরু করেছে যুদ্ধের মেঘ। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ফের হমকি দিল ইরান। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার মূর্খামির জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, তেহরান পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টও।
শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সে দেশের সেনা আধিকারিক মহম্মদ জাফর আসাদি বলেন, “ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমেরিকা এখন নিজেদের ছড়ানো জঞ্জাল পরিষ্কার করতে তৎপর। তাদের বর্তমান কর্মকণ্ড এবং বিবৃতিগুলি শুধুই প্রচারমূলক।” তিনি আরও বলেন, “মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী যদি নতুন করে কোনও দুঃসাহসিক অভিযান চালায়, মূর্খামির পরিচয় দেয়, তাহলে তার কড় জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।” অন্যদিকে, ইরানের এই হুমকির পালটা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টও। শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। গত ৪৭ বছরে মানবতা এবং গোটা বিশ্বের প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের মূল্য চোকাতে হবে। কোনও অসভ্যতা করলে ইরানে ফের গোলাবর্ষণ শুরু করবে আমেরিকা।”
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। তাদের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন ট্রাম্প। জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন নির্ধারিত সময়ের আগে সেখান থেকে সরবে না। কারণ, তারা চায় না তিন বছর পর আবারও একই ধরনের সমস্যার উদ্ভব হোক। পাশাপাশি তেহরানকে খোঁচা মেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ”ওদের নেতৃত্ব একেবারে অসংগঠিত। সবাই সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, কিন্তু নিজেদের মধ্যেই চরম বিশৃঙ্খলা…”
এদিকে মার্কিন একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যদি ফের যুদ্ধ শুরু করে সেক্ষেত্রে নয়া যে পরিকল্পনা রয়েছে তা হল, ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে সেখানে ছোট অথচ মারণ হামলা চালানো। সেন্টকমের আশা, এটি তেহরানের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং তাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। মার্কিন বাহিনী আশা করছে, ব্যাপকহারে বোমা বর্ষণ শুরু হলে, শান্তি আলোচনার শর্ত নিয়ে আলোচনার সময় ইরান পারমাণু ইস্যুতে আরও নমনীয় হতে পারে।
