সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু তরুণকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বুকে গুলি করে খুন করার ঘটনায় উত্তাল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ। ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। পথে নেমে মোবাইলের টর্চ জ্বেলে ন্যায়বিচার দাবি করতে দেখা গিয়েছে আন্দোলনকারীদের।
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম কৈলাস কোহলি। এলাকার জমিদারের বিরুদ্ধে উঠেছে পেশায় কৃষক কোহলিকে খুনের অভিযোগ। এরপরই পথে নেমে এসেছেন সেখানকার সংখ্যালঘুরা। তাঁদের পথে মোবাইল জ্বেলে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে। যতক্ষণ না অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হচ্ছে, প্রতিবাদ চলবে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। শিবা কাচ্চি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'শহিদ কৈলাস কোহলির খুনির গ্রেপ্তারির দাবিতে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তা ইতিহাস গড়েছে। এটা স্রেফ প্রতিবাদ নয়, আহত বিবেকের আর্তনাদ।
গতকাল সকাল দশটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কোনও শব্দ না করে ধরনায় বসেছিলেন সকলে। যা প্রমাণ করে দিচ্ছে ন্যায়বিচারের দাবিকে কখনও দাবিয়ে রাখা যায় না। পুরুষ, নারী, বয়স্ক মানুষ, নিরীহ শিশুরা সকলেই পথে বসেছিলেন। সকলের কণ্ঠে একটাই দাবি, কৈলাস কোহলির জন্য ন্যায়বিচার।' প্রবল শীতে খিদেকে সঙ্গী করেও মানুষের এই প্রতিবাদ প্রবল আকার ধারণ করেছে। শিবার আরও বক্তব্য, ''কৈলাস কোহলির একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল যে তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক...''
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এই ঘটনা প্রথমবার নয়। প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নির্যাতনের জেরে হিন্দুদের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে। জোর করে হিন্দুদের জমি দখল, খুনের পাশাপাশি মৌলবাদীদের নির্দেশে অল্প বয়সি মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর তার ধর্ম বদলে বিয়ে দেওয়া হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে। অভিযোগ, এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনও সুরাহা হয় না। সব মিলিয়ে অসহায়তার মধ্যে থাকা মানুষেরা এবার পথে নেমেছেন ভয় ভুলেই। যা ইতিহাস তৈরি করছে বলেই দাবি।
