তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কা! রবিবার ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ইরানের উপর বেলাগাম হামলা শুরু করেছে ইজরায়েল। এই ঘটনায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উপর চটে লাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার ট্রাম্প জানালেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে আমেরিকাই। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন তা মেনে নিতে হবে ইজরায়েলকে। এখানে নেতানিয়াহুর কোনও ভূমিকা নেই।
রবিবার লেবাননের বেইরুটে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। এর পালটা ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। জবাবে সোমবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান, তাবরিজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালায় ইজয়ারায়েল। ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী সম্প্রতি পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করেছে। এদিকে হামলার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইরানের আকাশসীমা। সংঘর্ষবিরতিতে দাঁড়ি টেনে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকে আরও বহুদূর ঠেলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের (Donald Trump) নিষেধ সত্ত্বেও সোমবার ইরানে এই হামলা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। চুক্তির দোরগোড়ায় এসে এই ঘটনায় তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে আমেরিকাই। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন তা মেনে নিতে হবে ইজরায়েলকে। এখানে নেতানিয়াহুর কোনও ভূমিকা নেই।
এদিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "নেতানিয়াহুর (Netanyahu) কোনও ভূমিকা নেই। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবটাই আমি নিই। উনি নেন না।" জানা যাচ্ছে, কঠোর অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প ইজরায়েলকে জানিয়েছেন, লেবাননে যেন অবিলম্বে হামলা বন্ধ করা হয়। এবং ইরানেও যেন পালটা হামলা না চালানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "দেখা যাক কীভাবে এই সংঘাত শেষ হয়। তবে এই সংঘাত চুক্তির উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। ইজরায়েল যে হামল চালিয়েছে তা খুব একটা জোরালো নয়। তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বহু বছর ধরেই এই ধরনের হামলা চলছে।"
এদিকে কূটনৈতিক মহলের মতে, আসলে ট্রাম্পের ভূমিকায় একেবারেই খুশি নন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এই চুক্তির অর্থ ইরানের সঙ্গে অনেকটাই আপসের পথে হাঁটছে আমেরিকা। এই অবস্থায় যদি চুক্তি সম্পন্ন হয় তাহলে নেতানিয়াহুর তা দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। এই অবস্থায় ইজরায়েলের হামলা ও যুদ্ধের আগুনে আহুতি দেওয়ার ঘটনা কূটনৈতিক চাল হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
