আড়ালে থেকে যুদ্ধের কলকাঠি নাড়ছেন ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের মাঝে তিনি জানিয়েছেন, কোনও ভাবেই হরমুজ খোলা হবে না। এহেন মোজতবার উদ্দেশে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জানালেন, ইরানের নব নির্বাচিত সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে রেয়াত করা হবে না। তাঁকে রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পুতুল বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
বৃহস্পতিবার ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। ইজরায়েল আগের চেয়েও শক্তিশালী। ইরানের সুপ্রিম লিডারকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।' ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, 'তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কোনও জীবন বিমা নেই। ওই অত্যাচারি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে। আমরা রাস্তায় ও চেকপয়েন্টে আইআরজিসি ও বাসিজের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছি।'
এছাড়াও নয়া সুপ্রিম লিডারকে পুতুল কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু বলেন, 'খামেনেই ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর পুতুল মাত্র। পরিস্থিতি এমন যে নতুন সুপ্রিম লিডার প্রকাশ্যে কোথাও দেখা দিতে পারছেন না।' উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে মোজতাবার স্ত্রী এবং আট বছরের পুত্রেরও। তবে সেই হামলায় মোজতবার আহত হওয়ার খবর সামনে আসে। সংবাদ মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোজতাবা। বর্তমানে তিনি কোমায় রয়েছেন। একটি পা-ও হারিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তাঁর যকৃৎ এবং পাকস্থলীও নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী তেহরানের একটি হাসপাতালে মোজতাবা চিকিৎসাধীন।
নেতানিয়াহু বলেন, 'তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কোনও জীবন বিমা নেই। ওই অত্যাচারি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে।
ইরানের জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বহু প্রত্যাশিত সেই মুহূর্ত এখন খুব কাছে। আপনারা (ইরানের বিক্ষুব্ধ জনগণ) স্বাধীনতার উদ্দেশে পা বাড়াতে পারেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রেখেছি। কিন্তু শেষ পেরেকটা আপনাদেরই পুঁততে হবে। ওটা আপনাদেরই হাতে।' ইরান কি শাসন ব্যবস্থা বদলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করছে? এর উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, 'আমরা কাউকে জলের পথ দেখিয়ে দিতে পারি কিছু জলপানে বাধ্য করতে পারি না।' তবে নেতানিয়াহু এটাও স্পষ্ট করে দেন, 'কোনও পরিস্থিতিতেই ইরান আগের মতো থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যও আগের মতো থাকবে না।'
এদিকে আড়াল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যাবতীয় সামরিক ঘাঁটি বন্ধ রাখতে হবে। নয়তো সেখানে হামলা হবেই। শত্রুদের থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নেবে ইরান, এমনটাও জানিয়েছেন মোজতবা।
