পৃথিবীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসছে প্রাকৃতিক শক্তির ভাণ্ডার। ফলে সচেতন রাষ্ট্র হিসাবে অপ্রচলিত শক্তির দিকে ঝুঁকছে ভারত। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উজবেকিস্তান সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হয়েছে তাশখন্দে। এর ফলে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। উজবেক প্রেসিডেন্ট শভকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকের পরেই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির কথা সোশাল মিডিয়া পোস্টে জানান মোদি।
এভাবে "আমরা ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গড়ে তুলব।" বৈঠক পরবর্তী পোস্টে জানান মোদি। আরও জানান, আলোচ্যসূচিতে কেবল ওই বিষয়টিই ছিল না। ভারত ও উজবেকিস্তান তিনটি ‘সিস্টার-সিটি’ ও ‘সিস্টার-স্টেট’ চুক্তিও চূড়ান্ত করেছে। মোদি বার্তা দিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রস্তাব যেন কেবল স্বাক্ষরিত কাগজের স্তূপে পরিণত না হয়। একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। যাতে দুই দেশের অংশীদারিত্বের সুফল বাস্তবে পাওয়া যায়।
শহরের উন্নয়নের বিষয়টিও মোদি-শভকত আলোচনায় উঠে আসে। উজবেকিস্তান বর্তমানে ‘নিউ তাশখন্দ’ গড়ে তুলছে। যেটি একেবারে নতুন একটি শহর হিসাবে নির্মিত হচ্ছে। মোদি এক্ষেত্রে গুজরাটের ‘গিফট সিটি’-কে অনুকরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরার জন্য তাঁদের ভারতে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
অন্যদিকে শভকত মিরজিয়য়েভ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে একটি "নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার" হিসেবে অভিহিত করেন। জানান যে, গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এছাড়াও আগের তুলনায় ভারত-উজবেকিস্তান যৌথ উদ্যোগের সংখ্যাও সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, উজবেকিস্তান সফরে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। প্রেসিডেন্ট শভকত মিরজিয়য়েভ নিজে ‘অলি দারাঝালি দুস্তলিক’ -এ ভূষিত করেন মোদিকে। এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ৩৬তম আন্তর্জাতিক সম্মাননা। 'সম্মানিত হয়ে গর্বিত' বলেন মোদি। ভারত ও উজবেকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতি প্রাপ্ত সম্মানকে উৎসর্গ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
