সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত সিন্ধু জলচুক্তি মানবে না। পহেলগাঁও হামলার পরই ঘোষণা করে নয়াদিল্লি। তখন থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানে। এ পর্যন্ত 'বর্ষণ' না করতে পারলেও 'গর্জন' চলছে নিয়মিত। এর মধ্যে আবার চন্দ্রভাগা নদীর উপর দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে মোদি সরকার। যা নিয়ে ফের সেই একই কাঁদুনি গাইল পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রক বলছে, 'সিন্ধুচুক্তি ভঙ্গ করে এভাবে একক দখলদারি মানব না।'
পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি (ESC) চলতি মাসের শুরুতে চন্দ্রভাগার উপর দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩,২০০ কোটি টাকা। পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদনের জেরে নির্মাণ সংক্রান্ত দরপত্র শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের অনুমোদনের আগে কেন্দ্রীয় প্যানেলের বৈঠকে সিন্ধু চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার এই চুক্তি পহেলগাঁও হামলার পর থেকে স্থগিত করেছে সরকার। যদিও প্যানেলের দাবি, অতীতের চুক্তি অনুযায়ীই এই নয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা হয়েছে।
কিন্তু পাক সরকার ভারতের এই পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন, "আমরা দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জেনেছি। প্রতিবেদনগুলি গুরুতর উদ্বেগের। কারণ, ওই প্রকল্প সম্পর্কে পাকিস্তানকে অবহিত করা হয়নি। কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।" তাঁর দাবি, "সিন্ধু চুক্তি অনুযায়ী ভারত পশ্চিমমুখী কোনও নদীতে একতরফা ভাবে কোনও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের অনুমতি পায় না। তাঁদের যে সীমাবন্ধ অনুমতি রয়েছে সেটার অপব্যবহার ভারত করতে পারে না।" এরপরই পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের হুঁশিয়ারি, পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর ভারত দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে নেহরু আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি করেছিল ভারত। এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু ও তাঁর উপনদীগুলির জল ভারতের প্রাপ্য। এগুলি হল শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতী। অন্যদিকে পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে অধিকার থাকবে পাকিস্তানেরও। তবে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সেই চুক্তি স্থগিত করে দেয় মোদি সরকার। যা রাজনৈতিক হুমকির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে পাকিস্তান। এবারেও ফের হুঁশিয়ারি দিল তাঁরা। তবে এ পর্যন্ত ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনও পদক্ষেপই তারা করতে পারেনি।
