ইসলামের ধারক-বাহক হিসাবে বিশ্বের দরবারে বারবার নিজেকে তুলে ধরতে চেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই পাকিস্তানই রমজান মাসে হামলা চালাচ্ছে পড়শি আফগানিস্তানের উপর! এখানেই শেষ নয়, বেছে বেছে আফগান মসজিদ এবং মাদ্রাসার উপর আছড়ে পড়েছে পাক গোলা। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সবসময় সমর্থন করবে নয়াদিল্লি।
আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে সে দেশের নাঙ্গারহার এবং পাকটিকা প্রদেশে বিমান চালিয়েছে পাক সেনা। তাতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জনের। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে জখমও হয়েছেন অনেকে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান সীমান্তে সক্রিয় থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলি ধ্বংস করতেই এই হামলা। ওই এলাকায় টিটিপি এবং ইসলামিক স্টেটের মদতে বহু জঙ্গিঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে নাশকতার ছক কষা হচ্ছে ওই এলাকা থেকে, এমনটাই দাবি ইসলামাবাদের।
অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে। কঠিন সময়েও 'বন্ধু'র পাশে দাঁড়াল নয়াদিল্লি।
কিন্তু আফগানিস্তানের আমজনতা দাবি করছেন, জঙ্গিঘাঁটি নয়, আসলে মসজিদ-মাদ্রাসাগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আবদুল্লা জান, নাসিম গুল, মহম্মদ জুবেরদের মতো স্থানীয় আমজনতার কথায়, "এখানে কোনও সশস্ত্র বাহিনীর ঘাঁটি নেই। কোনও সামরিক কার্যকলাপও হয় না। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান আমাদের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে। আমাদের বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অন্তত ১০ লক্ষ আফগানির ক্ষতি হয়েছে। সকলে আতঙ্কে কাঁপছে।" পাক হামলার যোগ্য জবাব দিক আফগানিস্তান, চাইছেন আমজনতা।
ইতিমধ্যেই তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেছেন, ইসলামাবাদ যে ভাবে নিরীহ মহিলা ও শিশুদের খুন করেছে, তার জবাব দেওয়া হবে। সময় মতোই বদলা নেওয়া হবে। এহেন পরিস্থিতিতে কাবুলের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতও। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "রমজান মাসে আফগানিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। মহিলা এবং শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।" উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে। কঠিন সময়েও 'বন্ধু'র পাশে দাঁড়াল নয়াদিল্লি।
