কার্যত জোর খাটিয়ে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরুরি অবস্থা জারি করে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে-রীতিমতো ছলনা শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই শুল্কনীতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারও করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত ভারত থেকে যে বিপুল পরিমাণ শুল্ক আদায় হয়েছে, সেটা কি ফেরত দেবে আমেরিকা?
১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ-র আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর বিভিন্ন হারে শুল্ক বসিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রথমে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। সেই শুল্কহার কার্যকর হতে না হতেই আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান রুশ তেল কেনার 'শাস্তি' হিসাবে। ভারতের অর্থনীতিতে বেশ ধাক্কা লাগে জোড়া শুল্কবাণের জেরে। আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অনেকখানি কমে যায়। ব্যবসার জন্য অন্যান্য দেশে বাজার বাড়াতে উদ্যোগ নেয় ভারত।
নিম্ন আদালত যদি শুল্কের অর্থ ফেরাতে নির্দেশ দেয় সেটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ভারতের থেকে আদায় করা বেআইনি শুল্ক কবে ফেরানো হবে, উত্তর অজানা।
শেষ পর্যন্ত সেই বিরাট শুল্কহারকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। তারপর শুল্ক দপ্তরের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই কর সংগ্রহ বন্ধ করা হবে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত সংগ্রহ করা শুল্কের অর্থ কি ফিরিয়ে দেবে ট্রাম্প প্রশাসন? সেই প্রশ্নের জবাবে মুখ খুলেছেন আমেরিকার বাণিজ্য কর্তা জেমিসন গ্রির। তিনি জানান, "কী করতে হবে সেটা আদালতের সিদ্ধান্ত। শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আদালতের রায়ের ফলেই। তাই অর্থ ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।"
জেমিসন জানিয়ে দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট বা নিম্ন আদালত শুল্ক নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাকেই মান্যতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ আদালত যদি নির্দেশ দেয় তাহলে ভারতের থেকে আদায় করা অর্থ ফিরিয়ে দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে রায়দানের পর ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ স্থির করা, কীভাবে অর্থ ফেরানো হবে তা নির্ধারণ করা-এসবে বিরাট সময় লাগবে বলেই মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। কারণ শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও পরিকল্পনা নেই। নিম্ন আদালত যদি শুল্কের অর্থ ফেরাতে নির্দেশ দেয় সেটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ভারতের থেকে আদায় করা বেআইনি শুল্ক কবে ফেরানো হবে, উত্তর অজানা।
