যে কোনও মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। কার্যত কামানের গোলার সামনে দাঁড়িয়েই গোপনে শক্তি বাড়াতে শুরু করল তেহরান। যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকাকে (US) মুখের মতো জবাব দিতে রাশিয়ার থেকে অত্যাধুনিক মিসাইল কেনার চুক্তি সেরে ফেলেছে ইরান (Iran)। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তিতে রাশিয়ার থেকে বিপুল সংখ্যায় অত্যাধুনিক 'শোল্ডার ফারার্ড মিসাইল' কিনতে চলেছে তারা। আমেরিকার সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে গত ডিসেম্বর মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি সেরে ফেলে ইরান। চুক্তির ভিত্তিতে, আগামী ৩ বছরের মধ্যে ইরানকে ৫০০টি 'ম্যান পোর্টেবল ভার্বা লঞ্চ ইউনিট' ও ২৫০০ টি '৯এম৩৩৬' ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ইরানকে। জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এইসব অস্ত্র কেনার জন্য রাশিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইরান। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওই সময়েই ইরানের পরমাণুঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এর ঠিক পরই নিজেদের শক্তি বাড়াতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হয় তেহরান। গোপনে মস্কোতে গিয়ে চুক্তি সই করে আসেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, নয়া পরমাণু চুক্তি সই করানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উপর চাপ দিয়ে আসছে আমেরিকা। এই চুক্তিতে আমেরিকার শর্ত দিয়েছে, ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরি করতে পারবে না ইরান, বন্ধ করতে হবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি। পাশাপাশি হেজবোল্লা, হাউথির মতো সংগঠনগুলিকে সমর্থন জোগানো বন্ধ করতে হবে ইরানকে। শর্ত না মানলে ১০ দিনের মধ্যে হামলা হবে তেহরানে। যদিও আগামী দু-একদিনের মধ্যেই আমেরিকা ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে ইরানে। সবদিক থেকে প্রবল চাপের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। এই অবস্থায় আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায় তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করার প্রস্তুতি শুরু করে দিল তেহরান।
তবে এসবের মাঝেও আমেরিকার আলোচনার পথ খোলা রেখেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানান, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে যা পরে ওয়াশিংটনে পাঠানো হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাও শুরু হতে পারে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তবে সে সবের মাঝেই এবার সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য।
