চিন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিল বিরাট মার্কিন নৌবহর! এমনটাই শোনা যাচ্ছে সূত্র মারফত। গত কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে ইরানে। বিমানহানার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেই প্রশাসন। এহেন পরিস্থিতিতে খবর ছড়িয়েছে, ৭৫০০ সেনাসমৃদ্ধ মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রওনা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেই বিরাট বাহিনী ইরান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে যেতে চলেছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা নিউজ নেশান সূত্রে খবর, দক্ষিণ চিন সাগরে মোতায়েন ছিল আমেরিকার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। পেন্টাগনের নির্দেশে সেটিকে সরিয়ে আনা হচ্ছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায়। এই সেন্ট্রাল কমান্ড মূলত মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার (US-Iran Tensions) বর্তমান সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় আনা হচ্ছে যুদ্ধজাহাজটিকে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে ইরান সংলগ্ন জলসীমায় পৌঁছতে সাতদিন সময় লাগবে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের।
কতখানি শক্তি রয়েছে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের? উইকিপিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭৫০০ নৌসেনা থাকেন এই গ্রুপে। সাধারণত একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, একটি ক্রুজার, দু'টি ডেস্ট্রয়ার থাকে। সেই সঙ্গে সাবমেরিন এবং অন্যান্য সাহায্যকারী জাহাজ থাকে। মার্কিন নৌসেনার হাতে সবমিলিয়ে ১১টি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। একটা দেশের গোটা নৌসেনার মোকাবিলা করার ক্ষমতা রয়েছে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের। যেহেতু ইরানের আকাশসীমা বন্ধ, সেকারণেই কি জলপথে ইরানের উপর আক্রমণ শানানোর কথা ভাবছে আমেরিকা?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, “ইরানে যদি আন্দোলকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে আমেরিকা কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না। ভয়ংকর কিছু ঘটবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পরই তাঁকে পালটা তোপ দেগেছে তেহরান। আমেরিকা যদি হামলা চালায় তাহলে ইরান তার যোগ্য জবাব দিতে তৈরি বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল। উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র লক্ষ্য করে মার্কিন বোমা আছড়ে পড়েছিল। এবার কি তবে জলপথে যুদ্ধে জড়াবে ইরান-আমেরিকা?
