সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আফগানিস্তানে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া চলবে না। আফগানভূমে জেহাদিদের প্রশিক্ষণ ও শিবির স্থাপন মেনে নেবে না ভারত। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নাম না করে এভাবেই পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিলেন নয়াদিল্লির প্রতিনিধি রুচিরা কম্বোজ।
এদিন নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনার সময় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কম্বোজ বলেন, “ভারত আশা করে যে আফগানিস্তানের জমিতে সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ ও শিবির স্থাপন করা হবে না। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা জঙ্গিদের ও মাদক পাচারকারীদের আফগানভূমে আশ্রয় দেওয়া হবে না।”
আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয়েক প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে রুচিরা কম্বোজ বলেন, “আফগান জনতার কথা মাথায় রেখে এবং রাষ্ট্রসংঘের আবেদনে সাড়া দিয়ে আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠাচ্ছে ভারত। আফগানিস্তানের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে ভারত। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই আফগানদের নিরাপত্তা এবং সে দেশে শান্তি বহাল করার কাজই ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।”
সাম্প্রতিক অতীতে গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের হতশ্রী দশা। একদিকে তীব্র খাদ্য সংকট, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে সাধারণ আফগান বিশেষত মহিলা ও সংখ্যালঘুদের চরম দুর্দশার ছবি ফুটে উঠতে দেখা গিয়েছে ২০২১ সালের শেষার্ধ থেকে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে ভারত।
[আরও পড়ুন: ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম ব্যবহার করে সুইস ব্যাংকে বিপুল অর্থের লেনদেন, নয়া অভিযোগে বিদ্ধ পুতিন ]
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে মার্কিন সেনা সরতেই দেশটি দখল করেছে তালিবান (Taliban)। বর্তমানে সেখানে আরও সক্রিয় হয়েছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সূত্রের খবর, সেদেশে অবস্থিত ভারতীয় বসতি ও পরিকাঠামোগুলি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছে তারা।
বলে রাখা ভাল, ২০০১ সালে আফগানিস্তান থেকে তালিবানদের সরিয়ে দেওয়ার পর ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি পরিমাণ অর্থ সেদেশে বিনিয়োগ করেছে ভারত। আফগানিস্তানে ভারতীয়দের অন্যতম কীর্তি ডেলারাম থেকে জারাঞ্জ যাওয়ার ২১৮ কিমি রাস্তা। পাশাপাশি ভারত-আফগানিস্তান মৈত্রী বাঁধ এবং ২০১৫ সালে উদ্বোধন হওয়া আফগানিস্তানের সংসদ ভবন, সবই তৈরির পিছনে রয়েছে ভারতই।
