নিজেকে মার্কিন গুপ্তচর বিভাগের সদস্য বলে দাবি করে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানাল ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, ভুয়ো পরিচয়ে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে ফাইটার জেট, হেলিকপ্টার এমনকি মিলিটারি কমান্ড সেন্টারের ভুয়ো প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেরে ফেলেন তিনি। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। জানা যাচ্ছে, নিজেকে সিআইএ এজেন্ট বলে দাবি করা ওই ব্যক্তি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গৌরব শ্রীবাস্তব।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একদা লখনউয়ের বাসিন্দা অভিযুক্ত গৌরব শ্রীবাস্তব নিজেকে সিআইএ এজেন্ট বলে দাবি করে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ আধিকারিক ও শিল্পপতিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান গৌরব। এরপরই শুরু হয় কোটি কোটি টাকার চুক্তি। জানা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনে এক শীর্ষ বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গী হন এই প্রতারকও। চুক্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের পকেটে পোরেন এই প্রতারক। তবে শেষ পর্যন্ত গৌরবের এই জালিয়াতি ফাঁস হয় তাঁরই এক ব্যবসায়িক অংশীদারের দৌলতে।
মিথ্যে কৃতিত্বে ডালি সাজিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিজেকে মিস্টার জি বলে বড়াই করতেন এই প্রতারক।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গৌরবের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন তাঁরই এক প্রাক্তন ব্যবসায়িক অংশীদার নিলস ট্রুস্ট। যেখানে বলা হয়, তিনি তাঁর সংস্থার ৫০ শতাংশ অংশিদারিত্ব গৌরবকে দিয়েছিলেন। নিলসের অভিযোগে আরও বলা হয়, গৌরব ইন্দনেশিয়ায় নিজেকে সিআইএ এজেন্ট বলে দাবি করে অন্যায় সুবিধা নিত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একসময় সুবিয়ান্তোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মার্কিন আবাসন দপ্তর সেই নিষেধাজ্ঞা তিনি তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করতেন গৌরব। এমনই সব মিথ্যে কৃতিত্বে ডালি সাজিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিজেকে মিস্টার জি বলে বড়াই করতেন এই প্রতারক।
অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের দাবি, মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে যুক্ত চারটি সংস্থা ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং সে দেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে পাঁচটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে ছিল ৩৬টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, সি-১৩০ পণ্যবাহী বিমান কেনার চুক্তিও। এহেন প্রতারণা সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গৌরবের যে মার্কিন প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি নন সে কথা স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকার প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস্টোফার মিলার। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক লেনদেন বিভাগ। কীভাবে তিনি প্রশাসনের অঞ্চরে এত বিশ্বাস অর্জন করলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌরব। পালটা নিলসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
