২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল যুদ্ধ। একটানা তিন মাস চলার পর বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষবিরতি শুরু হয়েছে। যদিও আমেরিকা ও ইজরায়েল এখনও পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে পারেনি। হরমুজে দখলদারি, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে উভয়পক্ষে দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর মধ্যেই পাকিস্তান মারফত আমেরিকার কাছে নতুন করে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। সূত্রের খবর, মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। লেবাননেও হামলা চালানো যাবে না। মার্কিন বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী থেকে ‘অবরোধ’ তুলে নিতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, এবারেও কি ইরানের ঢালাও দাবি মেনে নেবে আমেরিকা?
সংঘর্ষ বিরতির পরে পাকিস্তানে প্রথম দফায় শান্তি বৈঠকে বসেছিল ইরান-আমেরিকা। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক ভেস্তে যায়। তেহরান দাবি করে, ওয়াশিংটন দাদাগিরি করতে চাইছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপরে, যা তারা মেনে নেবে না। নতুন করে দ্বিতীয় দফায় শান্তিবৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও নানা কারণে এখনও পর্যন্ত উভয়পক্ষে মুখোমুখি বসতে পারেনি। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী থেকে ইরানের হাত আলগা হতেই বিশ্বের জ্বালানির ধমনীর দখলদারি নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌসেনা। ইরানের একাধিক জাহাজকে বাজেয়াপ্তও করেছে তারা। পালটা একাধিক ট্যাঙ্কারে হামাল চালিয়েছে ইরানের সেনা। হরমুজের দাদাগিরি নিয়ে একে অপরকে হুমকি দিয়ে চলেছে দুই পক্ষ।
এমন আবহে নতুন করে আমেরিকাকে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠাল ইরান। তেহরান বলেছে,তাদের উপর থেকে সব রকম নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তাদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ছেড়ে দিতে হবে। এমনকী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব করেছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইরানের নয়া প্রস্তাবে আদৌ সমাধান সূত্র মিলবে না। কারণ প্রথম দফায় বৈঠকের শর্তে সামান্যই বদল করেছে তেহরান। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে চায় না আমেরিকা।
ইরানের নয়া প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত লিখিত আকারে হাতে পাননি তেহরানের প্রস্তাবের বিস্তারিত। তবে যে খবর রয়েছে তার কাছে, সেই প্রস্তাব তার পক্ষে মানা সম্ভব নয়। অপরপক্ষে ইরানের বক্তব্য, বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বে পূর্ণচ্ছেদ এখনও আকাশ কুসুম স্বপ্নই।
