যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সাহায্য করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ। এরই শাস্তিস্বরূপ ৫ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করল ইরান। ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধে তাদের যত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেই অর্থ আদায় করা হবে বাহরিন, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, কাতার ও জর্ডানের থেকে। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘে এমনটাই জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সইদ ইরাবানি।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘে ইরাবনি জানান, যুদ্ধে এই ৫টি দেশ শত্রুপক্ষকে নিজেদের সেনাঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। তাদের জন্যই ইরানের মাটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। প্রতিবেশী এইসব দেশ থেকেই হামলা চলেছে ইরানের একাধিক জায়গায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আকাশছোঁয়া। যুদ্ধে ইরানের যা ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্নির্মাণের খরচ এইসব দেশ থেকেই আদায় করা হবে।
রাষ্ট্রসংঘে ইরাবনি জানান, যুদ্ধে এই ৫টি দেশ শত্রুপক্ষকে নিজেদের সেনাঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। তাদের জন্যই ইরানের মাটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে।
এদিকে যুদ্ধের জেরে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব কষতে শুরু করেছে ইরান। জানা যাচ্ছে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। প্রাথমিক সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি বলেন, "প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন ডলার। সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ক্ষতির হিসেব করছে। প্রথমধাপে দেশের ভবনগুলি ধ্বংসের ক্ষতি ও দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ও শিল্পকেন্দ্রগুলি বন্ধ হওয়ার জেরে যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তারও হিসেব করা হবে।"
উল্লেখ্য, শান্তির লক্ষ্যে ইরানের তরফে আমেরিকাকে ১০ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি মেটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকেও বসে ইরান ও আমেরিকা। তবে শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক লাইনচ্যুত হয়েছে। বৈঠক ব্যর্থ হলেও আর্থিক ক্ষতি আদায় থেকে পিছু হঠছে না ইরান। যা আমেরিকার থেকে উসুল করার লক্ষ্য ছিল সেটাই এখন আদায় করা হবে ৫ মুসলিম দেশের থেকে।
