দিনকয়েক আগে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক নিস্ফলা হয়েছে। আবারও আলোচনায় বসতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান (US Iran peace talks)। আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হতেই বিশ্বজুড়ে ফের জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আবারও দুই দেশ বৈঠকে বসতে চাইছে বলে সূত্রের খবর। চলতি সপ্তাহেই হতে পারে এই বৈঠক। তবে পাকিস্তানের বদলে বিকল্প কোনও জায়গায় বৈঠক আয়োজিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মার্কিন সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে থামাতে উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি। তারাই চাইছে, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আবারও আলোচনা হোক। মধ্যস্থতায় অংশ নেওয়া, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরপেক্ষ দেশের আধিকারিকের কথায়, দ্বিতীয়বার শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেহরান দু'পক্ষই রাজি হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল এই বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে কোথায় বৈঠকে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা, তা এখনও জানা যায়নি।
শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আর্থিকভাবে ইরানকে বিপাকে ফেরতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। ইরানের তরফে পালটা হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়াটাই গোটা বিশ্বের কাম্য।
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসে দুই দেশ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আলোচনায় বসেন। ২১ ঘন্টা ধরে আলোচনা চলে দু'পক্ষের মধ্যে। আগামী শান্তি বৈঠকেও এই দুই প্রতিনিধিই আলোচনায় বসবেন কিনা, জানা নেই। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় বৈঠক হবে, তেমনটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, বৈঠকের বিকল্প কেন্দ্র হিসাবে জেনিভার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আর্থিকভাবে ইরানকে বিপাকে ফেরতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক দেওয়া যেকোনও জাহাজকে আটক করবে মার্কিন সেনা। পাশাপাশি মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা অবরোধ করবে তারা। অন্যদিকে ইরানের তরফে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি ইরানের বন্দরকে নিশানা করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির সময়ে সামরিক হামলা খানিকটা বন্ধ থাকলেও রণংদেহি মেজাজে রয়েছে দুই দেশ। এহেন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়াটাই গোটা বিশ্বের কাম্য। দ্বিতীয় বৈঠকে সমাধানসূত্র মিলবে কি?
