তিনদিনে পড়ল ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরান যুদ্ধ (Israel-US Attack Iran)। সোমবার সকালেও মধ্যপ্রাচ্যের নানা এলাকায় হামলার খবর মিলেছে। ইরান সেনার সদর দপ্তর মার্কিন হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। অন্যদিকে, ড্রোন আছড়ে পড়েছে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও। জানা গিয়েছে, ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আমেরিকার তিন সেনা। সবমিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে যুদ্ধের আগুনে। কূটনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এটাই কি তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?
ইরানে হামলার প্রতি সমর্থন থাকলেও সেদেশে হামলা চালায়নি ব্রিটেন। এক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র সূত্রে খবর, সোমবার ভোরে সাইপ্রাসের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা হতে পারে বলে হুমকি আসে। ঘাঁটিতে কর্মরতদের ফিরে যেতে বলা হয়, তারপরেই সেখানে আছড়ে পড়ে ড্রোন। তবে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এই হামলায়। এই হামলার পালটা ব্রিটেন কোনও অপারেশন শুরু করে কিনা, সেদিকে নজর কূটনৈতিক মহলের।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের রেভোলিুশনারি গার্ড কর্পসের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান সেনার সদর দপ্তর ধ্বংসের পর আমেরিকার প্রতিক্রিয়া, 'সাপের মাথাটাই থেঁতলে দিয়েছি।'
পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইজরায়েল। হেজবোল্লা ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে চলছে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। পালটা ইজরায়েলের দিকে মিসাইল ছুড়েছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠীও।
ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় ৪৮ জন ইরানি শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি জানান, এই হামলায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত পাঁচজন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বার্তা, 'মৃতরা সকলে প্রকৃত মার্কিন শহিদ। দেশের জন্য সর্বোচ্চ বলিদান করেছেন তাঁরা। তিন সেনার মৃত্যুর বদলা নেব।' মৃত সৈনিকরা সকলেই কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন বলেই সূত্রের খবর। তবে মার্কিন প্রশাসন সরকারিভাবে এই নিয়ে কিছু জানায়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান সেনার সদর দপ্তর ধ্বংসের পর আমেরিকার প্রতিক্রিয়া, 'সাপের মাথাটাই থেঁতলে দিয়েছি।' মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে সবপক্ষকে আর্জি জানিয়েছেন পোপ লিও। সাপ্তাহিক প্রার্থনায় তিনি বলেন, 'অস্ত্রের মাধ্যমে শান্তি বা স্থিতাবস্থা ফেরানো যায় না। তাই সবপক্ষকে আবেদন জানাই, এই হিংসা বন্ধ হোক। নয়তো অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।' উল্লেখ্য, এই প্রথমবার আমেরিকা থেকে পোপ নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আমেরিকার তরফ থেকেই হামলা শুরু হয়েছে ইরানের উপর।
