ইরান থেকে আর তেল কিনবে না ভারত। পরিবর্তে নয়াদিল্লি কিনবে ভেনেজুয়েলার তেল। এ কথা ঘোষণা করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "ইতিমধ্যেই আমরা এই চুক্তি সেরে ফেলেছি। চুক্তির বিষয়বস্তু এটাই।"
গত শুক্রবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে তাঁদের। এই সম্পর্ক যাতে আরও গভীর হয়, তা নিশ্চিত করার পক্ষেই সায় দিয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। তবে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা নিয়ে তাঁদের কোনও কথা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাচক্রে তার পরেই ট্রাম্পের নয়া দাবি। যদিও এ ব্যাপারে নয়াদিল্লি এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তুলে গত বছর একাধিক দেশের উপর অধিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় ভারতও ছিল। নয়াদিল্লির উপর আরও শুল্ক চাপানো হয়েছে কম দামে রুশ তেল কেনার জন্য। ওয়াশিংটনের দাবি, ভারত তেলের জন্য যে টাকা রাশিয়াকে দিচ্ছে, সেই টাকা দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ লড়ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। এই অভিযোগে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। এ নিয়ে বিবাদের জেরেই কার্যত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি হয়নি। এখনও দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি, আমেরিকা ভারতকে শর্ত দিয়েছে, রুশ তেল কেনা কমালে তবেই শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই নয়াদিল্লিও বিকল্প পথ খুঁজছে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে সে দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছে আমেরিকা। পরে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যবসাও এবার তারাই দেখবে। তারাই ঠিক করবে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করা হবে। অনেকের মত, রাশিয়া এবং ইরানের থেকে তেল কেনার পরিবর্তে ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার 'প্রস্তাব' দিয়েছে আমেরিকা। তাতে ভারত রাজি হয়েছে বলেও মত। যদিও নয়াদিল্লির তরফে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
