মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারত। গত শনিবার থেকে চলা যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, ওই এলাকা দিয়ে জাহাজ চলাচল করলেই সেটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে খানিকটা বদল আনল তেহরান। সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল চিনা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান। অর্থাৎ ভারতমুখী বা ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকেও তেহরান এখন 'শত্রু'র চোখে দেখবে।
ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। অর্থাৎ এই এলাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে ভারতের প্রভূত সমস্যা।
ইরানের উপর আমেরিকা এবং ইজরায়েল লাগাতার হামলা চালিয়ে গেলেও মুখ বন্ধ রেখেছে ভারত। 'বন্ধু' হয়েও ইরানে হামলার নিন্দা বা প্রতিবাদ করেনি নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দায় সরব হয়েছে চিন। রবিবার মার্কিন হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে ফোন করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। ফোনের ওই কথোপকথনে খামেনেই হত্যার তীব্র প্রতিবাদ করেছে বেজিং, এমনটাই সূত্রের খবর।
চিনের এমন পদক্ষেপে তেহরান অত্যন্ত সন্তুষ্ট, এমনটাই খবর ইরানের কূটনৈতিক মহলে। সেকারণেই হরমুজের মহাগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চিনকে একেবারে খোলা ময়দান দিতে চলেছে ইরান। অন্যান্য দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করলে আক্রমণ শানাবে ইরান, কিন্তু ছাড় পাবে একমাত্র চিনা জাহাজ। অর্থাৎ ভারতীয় বা অন্য দেশের জাহাজ যা ভারতে পণ্য জোগান দেয়, সেই জাহাজ পড়বে আক্রমণের মুখে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভারতের তরফেও যদি হামলার নিন্দা করা হত, এই 'সুবিধা' ভারতীয় জাহাজকেও দিত ইরান।
