নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পদে যিনিই বসবেন, তাঁকেই হত্যা করা হবে। ইরানে নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম নিয়ে নানা জল্পনার মাঝে এই ভাষাতেই হুমকি দিল ইজরায়েল। বুধবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ সমাজমাধ্যমের পোস্টে লেখেন, “ইরানের সন্ত্রাসবাদী জমানা নেতা হিসাবে যাঁকেই সর্বোচ্চ পদে বসাবে, তাঁকে ইজরায়েল খতম করবে।"
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার পদে যিনিই বসবেন, তিনিই ইজরায়েল এবং আমেরিকার পক্ষে বিপজ্জনক। তাঁর নেতৃত্বে ইরানের সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়নও চলবে। এই বিষয়টি নজরে রেখে ইজরায়েল স্থির করেছে, ইরানের কোনও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাই তারা টিকতে দেবে না। কাট্জ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু) এবং আমি ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। তাই সেই লক্ষ্যে (পরবর্তী ধর্মীয় নেতাকে মারা) প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমেরিকার সঙ্গীদের সহায়তায় আমরা পূর্ণ উদ্যমে অভিযান চালিয়ে যাব এবং ওই (ইরান) জমানাকে ধ্বংস করব।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেইকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। গত শনিবার সকালে আচমকাই তেহরানে খামেনেইয়ের দপ্তরে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েলি সেনা। সেই হামলায় নিহত হন খামেনেই-সহ ইরানের অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক। নিহত হন খামেনেইয়ের স্ত্রী, মেয়ে, জামাই এবং নাতনিও। এর পরেই সে দেশের প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শাসনভারও। পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতাকে বাছাইয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়। এর পরেই কানাঘুষো শোনা যায়, খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকেই পরবর্তী নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছে অন্তর্বর্তী কাউন্সিল। তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার হুমকি দিল ইজরায়েল।
