দোলের দু'দিন চুটিয়ে রং খেলবেন না, তাই কখনও হয়? কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই বিয়েবাড়ি! শাড়ি, গয়না সব তো প্ল্যানড, বাদ সাধছে মেক-আপ লুক! সপ্তাহ পেরিয়েও যদি ত্বক থেকে দোলের রং না ওঠে, তবে মনের মতো সাজবেন কী করে?
জলে গোলানো রং হলে তো কথাই নেই, বেশিরভাগ আবিরেও মেশানো থাকে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল। যা চামড়া থেকে উঠে গেলে সঙ্গে নিয়ে যায় জেল্লাও। ত্বক রুক্ষ ও মলিন করে তোলে। বাজারচলতি ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার তা শুধরাতে পারে না। তাছাড়া রং ওঠাতে বারেবারে সাবান বা ফেসওয়াশ ঘষা হয় যদি, তাতেও হীতে বিপরীত হয়। চামড়ার ‘ওপেন পোরস’-এ ঢুকে যাওয়া রঙের কণা চোখে দেখা যায় না। দেখা যায় কেবল চেহারার অনুজ্জ্বলতা, যা দামি মেক-আপেও ঢাকা যায় না।
কী করবেন তবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর উত্তর রয়েছে দুধে! আজ্ঞে হ্যাঁ, খাঁটি নির্ভেজাল দুধই কেবল এমন অবস্থায় পুনর্জীবিত করতে পারে ত্বক। তবে কেমনভাবে দুধ মাখবেন, সে বিষয়ে মেনে চলতে হবে সহজ কিছু টিপস।
দুধ-জলে স্নান করুন
দুধ-জলে স্নান
স্নানের জল হালকা গরম করুন। তাতে মেশান টাটকা গোলাপের পাপড়ি ও কাপদুয়েক খাঁটি দুধ। স্নানের সময়ে বারেবারে রগড়ে নিন সারা শরীরে। বাথটব থাকলে বাড়তি সুবিধা, দুধ-মেশানো জলে শরীর ডুবিয়ে রাখুন মিনিট পনেরো। ত্বকের মলিনতা কমেছে কিনা, সে প্রমাণ পাবেন হাতেনাতে।
হোম-মেড মিল্ক স্ক্রাব
দেড় কাপ গুঁড়ো দুধে মেশান কয়েক চামচ মধু, শুকনো গোলাপের পাপড়ি আর ওটস। মিশ্রণ ঘন হলে অন্য একটি ছোট বাটিভর্তি পিংক সল্ট নিয়ে, তাতে মেশান প্রায় ২০ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল। তেলের সমস্তটা লবণ শোষণ করে নিলে, তা মিশিয়ে নিন আগের মিশ্রণটির সঙ্গে। স্নানের সময় শরীর জিভিয়ে নিন আগেই। হালকা হাতে সারা শরীরে ঘষে নিন এই হোম-মেড মিল্ক স্ক্রাব। সপ্তাহে তিন দিনই যথেষ্ট। কাজ হচ্ছে কিনা, সে উত্তর ত্বকই জানান দেবে!
ব্যবহার করুন হোম-মেড মিল্ক স্ক্রাব
কেমনভাবে কাজ করে দুধ?
ল্যাকটিক অ্যাসিডে ভরপুর থাকে খাঁটি দুধ। অর্থাৎ এর চাইতে উপযোগী ‘ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েটর’ খুঁজলেও মেলা ভার। সাধারণ সাবান ময়লার সঙ্গে ত্বকের নিজস্ব তৈলাক্তভাবও সরিয়ে দেয়। দুধ ব্যতিক্রম। মিল্ক ফ্যাটের সংস্পর্শে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও মসৃণ। পর্যাপ্ত ব্যবহারে পূর্বের দাগছোপও দূর হতে বাধ্য!
ভুললে চলবে না, ত্বক সতেজ ও জেল্লাদার হলে তবেই যেকোনও মেক-আপ লুকে মানাবে। তাই সবার আগে বাঁচিয়ে তুলুন ত্বককে, আর হয়ে উঠুন বিয়েবাড়ির প্রধান আকর্ষণ!
