shono
Advertisement
Nuclear

যুদ্ধবিধ্বস্ত পরমাণু কেন্দ্রে রাষ্ট্রসংঘের প্রবেশে না! ভ্যান্সের দাবি খারিজ ইরানের, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

সোমবার জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিদের যেতে দিতে রাজি হয়েছে।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 10:46 AM Jun 24, 2026Updated: 10:46 AM Jun 24, 2026

শান্তি আলোচনার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বড়মুখ করে বলেছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষণের রাজি হয়েছে ইরান। তবে সে দাবি পুরোপুরি খারিজ করে তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের 'আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা' বা IAEA-কে কোনওভাবেই পরমাণু কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিধ্বস্ত পরমাণু কেন্দ্রে ঠিক কী লুকোনোর চেষ্টা করছে ইরান?

Advertisement

শুরু থেকেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের অভিযোগ ছিল ইরান গোপন ঘাঁটিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। যার জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ৩ পরমাণু কেন্দ্র ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহানে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে বিশদে কিছুই জানা যায়নি। পরে অবশ্য শোনা যায়, ৬০ সমৃদ্ধ বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলেছে ইরান। এই অবস্থায় সত্যিই ইরান পরমাণু বানাচ্ছিল কিনা তা জানতে সেখানে পরিদর্শক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। সোমবার জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিদের যেতে দিতে রাজি হয়েছে।

ইসমাইল বাকাই বলেন, 'আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা' বা IAEA-র সঙ্গে তাঁদের কোনও বৈঠক হয়নি। এবং কোনও সংস্থাকে ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

তবে মঙ্গলবার সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয় ইরানের তরফে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, 'আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা' বা IAEA-র সঙ্গে তাঁদের কোনও বৈঠক হয়নি। এবং কোনও সংস্থাকে ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই। ইরানের এহেন বার্তায় স্বাভাবিক ভাবেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'ওরা ভুল করছে। এবং নিজেদের ভুলের বিষয়ে যথেষ্ট অবগত ওরা। এমনটা হলে সব বৈঠক বাতিল হয়ে যাবে। চুক্তির অধীনে রাষ্ট্রসংঘের পরিদর্শকদের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে প্রবেশের অনুমতি ওদের দিতেই হবে। উপযুক্ত সময়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকবেন।'

উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আগেই বিধ্বস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে IAEA-র পরিদর্শনের দাবি খারিজ করেছিল ইরান। এরপর মার্কিন হামলার নিন্দা না করায় রাষ্ট্রসংঘের ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ইরান পার্লামেন্টে একটি বিল পাশ করা হয় এবং তাদের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement