মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা, তা খারিজ করে দিল ইরান। সোমবার সে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম এমনটাই দাবি করেছে। শুধু তা-ই নয়, শান্তি ফেরাত তেহরান পালটা ১০টি শর্ত চাপিয়েছেও বলে খবর।
সূত্রের খবর, ইরান যে ১০ দফা শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হল - যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। এছাড়াও তারা বলেছে, লেবানন এবং গাজাতে যে রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে, সেটাও বন্ধ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে সেই যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হয়। ইরান আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালীর উপর যাতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকে, সেই স্বীকৃতিও দিতে হবে। এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলিকে বিশেষ কর দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপর আমেরিকা আগে থেকেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। প্রস্তাবে তা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। এছাড়াও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে ইরান। এর পাশাপাশি, তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
রবিবার রাতে ছাপার অযোগ্য ভাষায় ইরানকে গালিগালাজ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, “… প্রণালীটা খুলে দে, পাগল … কোথাকার, নইলে তোদের নরকে ঠাঁই হবে। আল্লাহকে ডাক!” ইঙ্গিত দেন, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে আমেরিকা। ধ্বংস করা হবে সমস্ত সেতুও। সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবার রাত আটটায় হামলা হবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন ডেডলাইনের পরেই সংঘর্ষবিরতির জন্য উঠেপড়ে লাগে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা খারিজ করে দিল ইরান। এবার ট্রাম্প কি তেহরানের এহেন শর্তগুলি মানবে? সেটা এখন দেখার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের এই শর্ত ফুৎকারে উড়িয়ে সে দেশে আরও বড় অভিযান চালাতে পারেন।
