অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ দিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খোলার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাদের পালটা দিল ইরান। পরিষ্কার করে দিল, হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দেশের জন্য।
ইরানের নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, ''এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় কখনওই ফিরবে না। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইহুদি দেশের (ইজরায়েল) জন্য।'' পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে ইরান তাদের সার্বভৌম ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করেই যাবে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগছে গোটা পৃথিবী। দোষের ভাগিদার হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবারই তিনি বড় হুমকি দিয়েছেন তেহরানকে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, 'মঙ্গলবার ইরানে একই সঙ্গে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’ পালিত হবে। আগে যেমনটা হয়নি!' সেই সঙ্গেই অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে তিনি লেখেন, 'প্রণালীটা খুলে দে…, নইলে তোদের নরকে ঠাঁই হবে।' কিন্তু এহেন হুমকিতেও যে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়, বুঝিয়ে দিল তেহরান।
তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে নয়াদিল্লির জন্য। সূত্রের খবর, প্রয়োজনের তুলনায় খানিকটা ঘুরপথে ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ পার করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়ছেন, হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও। এদিন ইরানের বিবৃতিতেও সেই সুরই ধরা পড়ল।
