যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়াচ্ছে ইরান। কিন্তু তার মধ্যেও কিছু 'বন্ধু' দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তারা। সূত্রের খবর, এই 'বন্ধুত্বের দাম' হিসাবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে নিচ্ছে তেহরান। শোনা যাচ্ছে, প্রত্যেকটি জাহাজ চলাচলের জন্য ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ যাচ্ছে ইরানের পকেটে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
লন্ডনের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে ইরানের এই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের জাতীয় সুরক্ষা কমিটির সদস্য আলাদিন বোরোজের্দির নাম। তাঁর কথায়, প্রত্যেকটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করার জন্য ২ মিলিয়ন ডলার দিতে হচ্ছে ইরানকে। কারণ যুদ্ধের যথেষ্ট খরচ রয়েছে। তাই হরমুজে চলাচলকারী জাহাজের থেকে অর্থ নেওয়াই উচিত। আলাদিনের মতে, এই পদক্ষেপ থেকেই বোঝা যায় যে হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের কতখানি কর্তৃত্ব রয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে আলাদিনের এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছিলেন, “ভারত এবং ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই আমরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে ইরানকে কিছু দেওয়া হয়নি ভারতের তরফে।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আলাদা ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। বেশ কয়েকটি জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে। গোটা বিষয়টিকে ভারতের বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
কিন্তু সেটার নেপথ্যে কি আর্থিক লেনদেন রয়েছে? বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছিলেন, “ভারত এবং ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই আমরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে ইরানকে কিছু দেওয়া হয়নি ভারতের তরফে।" কিন্তু ইরানের জাতীয় সুরক্ষা কমিটির সদস্যের এহেন মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভারতও আর্থিক লেনদেন সেরেছে ইরানের সঙ্গে? যেহেতু ইরানের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ফলে এহেন 'ফি' মিটিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির বিপদ বাড়বে না তো?
