মার্কিন হামলার মধ্যেই একটি ইরানি জাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে ভারত। শনিবার একথা নিশ্চিত করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবার ‘বন্ধু’ ভারতকে ধন্যবাদ জানাল তেহরান।
সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহলি বলেন, “ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনার উপর হামলার পর গোটা পরিস্থিতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যেই ইরানের নৌবাহিনীর আরও একটি জাহাজ আইআরআইএস লাভান কোচিতে নোঙর করেছে। এর জন্য ভারত সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই।”
অন্যদিকে, শনিবার জয়শংকর বলেন, “ইরানের তরফ থেকে আমাদের কাছে একটি বার্তা এসেছিল। বলা হয়েছিল, তাদের একটি জাহাজ প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েছে। ফলে নিকটবর্তী বন্দরে সেটি নোঙর করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি এই বার্তা পাওয়ার পর ১ মার্চ জাহাজটিকে কোচি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এটি একটি মানবিক পদক্ষেপ।”
জানা গিয়েছে, ভারতে সামরিক মহড়া করতে এসেছিল আইআরআইএস লাভানও। মোট ১৮৩ জন কর্মী ছিলেন ওই জাহাজে। তাঁরা কোচিতে ভারতীয় নৌসেনা ঘাঁটিতেই আপাতত রয়েছেন। এই জাহাজ ভারত ছেড়ে কবে ফিরে যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের জাহাজ ভারতে থাকায় ট্রাম্প রুষ্ট হবেন কি? বর্তমানে ইজরায়েলের সঙ্গেও নয়াদিল্লির যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দেওয়াটা তেল আভিভও কি ভালোভাবে নেবে?
সমস্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিখ্যাত সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানি জাহাজ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। শ্রীলঙ্কায় থাকা ইরানি জাহাজ বা সেখানকার কর্মীদের আপাতত ‘বন্দি’ করে রাখতে ‘নির্দেশ’ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতকেও একই পথে হাঁটতে হবে বলেই দাবি মার্কিন প্রশাসনের, এমনটাই বলা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। আমেরিকার দাবি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত যতদিন পর্যন্ত না মিটছে ততদিন পর্যন্ত ইরানের যুদ্ধজাহাজ বা ইরানি কর্মী কাউকেই ‘মুক্তি’ দেওয়া যাবে না। ভারত ছেড়ে বেরনোর পর ইরানের এই জাহাজেও মার্কিন হামলা হতে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
