অষ্টম দিনেও ধুন্ধুমার যুদ্ধের সাক্ষী গোটা মধ্যপ্রাচ্য। তার মধ্যেই আমেরিকাকে কার্যত ‘অন্ধ’ করে দিল ইরান। জর্ডনে থাকা শক্তিশালী মার্কিন র্যাডার ‘থাড’ ধ্বংস করল তেহরান। শনিবার এক মার্কিন কর্তা খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জর্ডনের মার্কিন বিমানঘাঁটি মুওয়াফাক সালতিতে এই র্যাডারটি ছিল। ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। একাধিক স্যাটালাইট ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেও দেখা যাচ্ছে, মার্কিন র্যাডারটি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ইরানে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার পরই গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল তেহরান। জর্ডনের এই মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানি সেনা। কিন্তু সেই সময় দাবি করা হয়েছিল, ইরানের দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে, সেই হামলাতেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ‘থাড’।
বলে রাখা ভালো, ‘থাড’ হল আমেরিকার একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শত্রু পক্ষের ব্যালিস্টিক মিসাইল একটি আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি প্যাটরিওট নামের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার থেকেও শক্তিশালী। 'থাড'-এ এন/টিপিওয়াই-২ নামের যে র্যাডার থাকে, সেটিই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। দক্ষিণ কোরিয়া, গুয়াম-সহ বিশ্বের মোট আটটি স্থানে 'থাড' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। 'থাড'-এর প্রতিটি ব্যাটারির আনুমানিক খরচ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডার ব্যবস্থার মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এই গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পরিচালনা করতে ৯০ জনের বিশেষ একটি দল থাকে।
‘থাড’ হল আমেরিকার একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শত্রু পক্ষের ব্যালিস্টিক মিসাইল একটি আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম।
ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিজের সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের ডেপুটি ডিরেক্টর রায়ান ব্রবস্ট বলেন, “থাড ধ্বংস হওয়ার খবরটি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি ইরানের অন্যতম সফল হামলা। তবে আমেরিকার কাছে আরও অনেক শক্তিশালী র্যাডার রয়েছে।”
