সাতদিন লাগাতার হামলা। তারপর প্রতিবেশী দেশগুলির উপর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তেহরানকে তুমুল তুলোধোনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাফ বললেন, ইরান খুব মার খেয়েছে। এতদিন পর্যন্ত তারা মধ্যপ্রাচ্যে 'দাদাগিরি' করত, কিন্তু এখন তাঁরা স্রেফ 'হেরো'। ট্রাম্পের কথায়, আমেরিকার আক্রমণে ভয় পেয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। যদি ইরান সরাসরি তাদের দ্বারা আক্রান্ত না হয়, তাহলে তেহরানও আর হামলা চালাবে না।” এরপরই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে তিনি ক্ষমা চান। বলেন, “অন্য দেশগুলিকে আক্রমণ করার আমাদের কোনও ইচ্ছা নেই। সাম্প্রতিক হামলার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” তবে পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরানের এই ঘোষণার পরই নিজস্ব সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। লেখেন, 'মার খেয়ে ইরানের এখন নরক দশা। ওরা ক্ষমা চেয়েছে, প্রতিবেশীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমেরিকা আর ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণে ভয় পেয়েই ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আঘাত করবে না। আসলে ওরা গোটা পশ্চিম এশিয়ায় রাজত্ব করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যের কাছেই হেরে গেল ইরান। ওরা এখন আর মধ্য়প্রাচ্যের মস্তান নয়, বরং হেরো।'
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বে ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছে ইরান। আরব এবং মুসলিম দেশগুলি থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না তেহরান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরিন-সহ অনেক বহু মুসলিম দেশই চায় না ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধের আঁচ তাদের রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ুক। তাই তারা কৌশলগতভাবে দূরত্ব বজায় রাখছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক মুসলিম দেশের সঙ্গে আমেরিকা এবং ও পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই তারা সরাসরি ইরানকে সমর্থন করতে নারাজ। কিছুটা একঘরে হয়েই মধ্যপ্রাচ্যে হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।
