একে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তার উপর যুদ্ধের জেরে কার্যত ধুলোয় মিশেছে ইরানের অর্থনীতি। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দাম ভয়ংকরভাবে পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় মুদ্রা সংকট কাটাতে ১ কোটি মূল্যের নোট ছাপাল ইরান। শুনে অবশ্য মনে হতে পারে এক কোটির নোট মানে এক লহমায় কোটিপতি। তবে দেশটির কঠোর বাস্তব কিন্তু তা বলছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের এক কোটি রিয়ালের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৬৫০ টাকা। এই তথ্যেই স্পষ্ট যে খামেনেইয়ের দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন কতখানি গুরুতর আকার নিয়েছে।
রিপোর্ট বলছে, ইরানের এই বিপুল অঙ্কের নোট ছাপানোর মূল কারণ হল সেখানকার ভয়ংকর মুদ্রাস্ফীতি। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। এরপর ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ দেশটির ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়াল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সাধারণ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বিপুল নোটের বান্ডিল নিয়ে বাজারে যেতে হচ্ছে। এই বিরাট নগদ বহনের ঝক্কি সামলাতেই উচ্চ মূল্যের নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের জাতীয় ব্যাঙ্ক। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ইরান বাধ্য হয়েই এই অস্থায়ী সমাধানের পথে হেঁটেছে। তবে এই পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি কমানোর পরিবর্তে রিয়ালের উপর মানুষের আস্থা আরও কমিয়ে দিতে পারে।
দেশটির মুদ্রা রিয়াল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সাধারণ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বিপুল নোটের বান্ডিল নিয়ে বাজারে যেতে হচ্ছে। এই বিরাট নগদ বহনের ঝক্কি সামলাতেই উচ্চ মূল্যের নোট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের জাতীয় ব্যাঙ্ক।
ইরানের অর্থব্যবস্থার এই বেহাল পরিস্থিতি নেপথ্যে বিরাট হাত রয়েছে আমেরিকার। দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির উপর জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া যুদ্ধের জেরে বিদেশি বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে সেখানে। যার পরিণতি ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবক্ষয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে ইরানের কোটি কোটি রিয়াল ভারতের কয়েকশো টাকার সমান। সেদিক থেকে দেখলে ভারতের ৫০০ টাকার বিশাল ক্রয় ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু ইরানের এক কোটি রিয়ালে একটি সাধারণ পরিবারের একদিনের রেশন কেনা সম্ভব নয়।
এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের দাবি, নতুন নোট চালু করলেও ইরানের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান যে উন্নত হবে তেমন সম্ভাবনা কম। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানের ওপর থেকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ইরানের মুদ্রার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল মহলের মত, যুদ্ধ ও অস্থিরতা কীভাবে একটি শক্তিশালী দেশের মুদ্রাকেও নিছক কাগজের টুকরোতে পরিণত করতে পারে, তা দেখে ভারতের মতো দেশগুলির শিক্ষা নেওয়া উচিত। ফলে দেখতে ১ কোটি লাগলেও ইরানের ওই রিয়াল আসলে ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৬৫০ টাকা।
