আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শাসনকালে ইরানে নারী স্বাধীনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে নীতি পুলিশের হাতে খুন হয়েছেন তরুণী মাহসা আমিনি। প্রতিবাদে সরব হন মর্টিসিয়া অ্যাডামস নামের এক তরুণীও। কয়েক মাস আগে খামেনেইর ছবিতে আগুন ধরিয়ে তা থেকে সিগারেট জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিও। এবার খামেনেইর নিহত হওয়ার পর প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখালেন এই ইরানি শরণার্থী। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
‘মর্টিসিয়া অ্যাডামস’ আসল নাম নয়। নিরাপত্তার কারণেই এই ছদ্মনাম ব্যবহার করেন তরুণী। নিজেই জনিয়েছেন, ভিন্নমত পোষণের 'দোষে' ইরানে গ্রেপ্তার হন, নির্যাতনের শিকার হন। এক সময় তুরস্কে পালিয়ে যান। বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে ছাত্র ভিসায় থাকেন। এহেন মর্টিসিয়া এক্স হ্যান্ডেলে নতুন করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা গিয়েছে, কানাডায় ইরান-বিরোধী এক সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, ‘বলেছিলাম তো, ওর কবরের উপর নাচব?’ আরেকটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘তিনি (খামেনেই) ইঁদুরের মতো মারা গিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শুধু খামেনেই নয়, যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুব শিগগির অপারেশন ‘সিংহগর্জন’ সমাপ্ত হবে। এর পর কি ক্ষমতায় আসবেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভি? ফক্স নিউজ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেমনটাই দাবি করেছেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত ঘোষিত ভাবে আত্মসমর্পণ করেনি ইরান। বরং মার্কিন সেনা ঘাঁটি, নৌবহর, ইজরায়েলে পালটা হামলা চালাচ্ছে তারা।
