সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্য়ুর পর ইরানের (Iran) নতুন নেতারা তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই দাবিকে উড়িয়ে দিল তেহরান। জানিয়ে দিল, তারা কোনও মতেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্পকে বিঁধেওছে ইরান।
সোমবার ইরান বনাম আমেরিকা (US)-ইজরায়েলের সংঘাতের তৃতীয় দিন। কিন্তু টানাপড়েন থামার কোনও লক্ষণই নেই। এই পরিস্থিতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে লিখেছেন, "আমরা আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করব না।" লারিজানি আরও জানান, ভোটে জিততে ট্রাম্প 'আমেরিকা ফার্স্ট' স্লোগান দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁর কাজকর্মে 'ইজরায়েল ফার্স্ট'ই প্রকট হয়ে উঠছে। পশ্চিম এশিয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আরও মার্কিন সেনা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও দাবি করেছেন খামেনেইয়ের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা লারিজানি।
যুদ্ধের (Conflict) মধ্যেই একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নতুন নেতারা সমঝোতার বার্তা দিচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “ওঁরা কথা বলে চান। আমিও কথা বলতে রাজি হয়েছি। আমি ওঁদের সঙ্গে কথা বলব। ওঁদের এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। যেটা বাস্তবসম্মত এবং সহজেই সেরে ফেলে যায়, সেটা তাঁদের আরও আগে করে নেওয়া উচিত ছিল। ওঁরা অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করেছিল।” যদিও ট্রাম্প ইরানের কোন নেতাদের কথা বলতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট হয়নি। তিনিও খোলসা করে কিছু বলেননি। তবে অনুমান, রবিবার ইরানে গঠিত হওয়া তিন সদস্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরিষদের কথাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাঁর দাবিই খারিজ করে দিয়েছে ইরান।
প্রসঙ্গত, ইরানে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদে রয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি এবং সে দেশের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি। এত দিন খামেনেইয়ের হাতে একক ভাবে যে ক্ষমতা থাকত, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই না হওয়া পর্যন্ত সেই ক্ষমতা থাকবে তিন সদস্যের এই পরিষদের উপরে।
