অবশেষে থামবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ! ২৬ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইরানকে ১৫ দফা শর্ত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই জানা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে। এই ১৫ দফা শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা। ট্রাম্পের দেওয়া এই শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরমুজের তালা খোলা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে এসেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে আমেরিকার। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, ইরান তাঁকে বিরাট উপহার পাঠিয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওরা। আলোচনা সঠিক লোকেদের সঙ্গে চলছে বলেও জানান ট্রাম্প। এসবের মাঝেই সামনে এল ১৫ দফা শর্ত। মার্কিন প্রশাসনের সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইজরায়েলের এক সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এমনকী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
১৫ দফা শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা। ট্রাম্পের দেওয়া এই শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরমুজের তালা খোলা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
যুদ্ধবিরতির শর্তে ইরানকে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১২'। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল...
- ইরানকে তাদের সমস্ত পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
- সরকারিভাবে ইরানকে জানাতে হবে তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না।
- ইরানের মাটিতে কোনওভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা যাবে না।
- বর্তমানে ইরানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে তা রাষ্ট্রসংঘের হাতে তুলে দিতে হবে।
- ভেঙে ফেলতে হবে ইরানের নাতানজ, ইসফাহান ও ফরডো পারমাণবিক স্থাপনাগুলি।
- ইরানে স্বচ্ছতার সঙ্গে তদারকির অধিকার দিতে হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)কে।
- ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠনগুলি যাতে কোনও ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
- এই সংগঠনগুলিকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
- পুরোপুরি খোলা রাখতে হবে হরমুজ।
- অস্ত্রভাণ্ডারও সীমিত রাখতে হবে ইরানকে। কত ক্ষেপণাস্ত্র তারা রাখতে পারবে এবং তা কত পাল্লার হবে সেটা আমেরিকা বেঁধে দেবে।
- ইরান নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যই শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।
এর পরিবর্তে ইরানের উপর থাকা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এছাড়া একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে ইরানকে। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে ইরানকে ছাড় দেওয়া হবে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
তবে আমেরিকা শর্ত চাপালেও সেই শর্ত ইরান মানবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের সেনা উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই জানান, “যদি ট্রাম্প ইরানের কোনও পরিকাঠামোতে আঘাত হানে তাহলে এই ঘটনা ‘চোখের বদলে চোখে’ সীমিত থাকবে না। চোখের বদলে মাথা, হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হবে। আমেরিকাকে খোঁড়া করে দেওয়া হবে।” শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিরতির শর্তে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, “যুদ্ধ ততদিন জারি থাকবে যতদিন না আমেরিকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। এই যুদ্ধে ইরানের যা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে।” সংঘর্ষবিরতির দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, “ইরানের উপর দীর্ঘ বছর ধরে জারি থাকা সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।” এবং তৃতীয়ত, “আন্তর্জাতিক আইনি গ্যারান্টি দিতে হবে যে ওয়াশিংটন ইরানের কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তাহলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব।”
