ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার পর পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি সংকটে জেরবার গোটা বিশ্ব আশায় বুক বাঁধছে--- এবার মারণ যুদ্ধের অবসান হবে। যদিও ইজরায়েলের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, ট্রাম্প সমঝোতায় আসতে চাইলেও ইরান শর্ত মানবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ এখনই থামবে না।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান-আমেরিকা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ ইরানের দু'হাজারের বেশি মানুষের। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে বড় চাল দিয়েছে তেহরান। জ্বালানিতে টান পড়েছে গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় সোমবার ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইজরায়েলের শীর্ষ কর্তাদের একাংশের দাবি, মার্কিন শর্ত অনুযায়ী সমঝোতায় রাজি হবে না ইরান।
ইজরায়েল সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তার বলছেন, আলোচনায় নতুন পর্বেও ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার মার্কিন দাবি অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলি কর্তাদের বক্তব্য, মার্কন শর্ত মেনে সমঝোতায় রাজি হবে না ইরান। বিশেষত হরমুজ কৌশলে যখন যুদ্ধে তাদের পাল্লাই ভারী।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, ‘আজ আমি আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি বিশ্বাস করেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে আমরা এখনও পর্যন্ত যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি, তার ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। তবে আমরা ইরান ও লেবানন উভয় দেশের উপর হামলা অব্যাহত রাখছি। ইতিমধ্যেই আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছি। হেজবোল্লার উপরেও ধারাবাহিকভাবে মারাত্মক আঘাত হেনেছি।’ অর্থাৎ ট্রাম্প চাইলেও নেতানিয়াহু সমঝোতায় রাজি নয়।
