আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তিনিই আমেরিকা ও ইজরায়েলের মাথা ব্যথার কারণ। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে তাঁর আঙুলের ইশারাতেই হামলা চালাচ্ছিল তেহরান। সেই প্রয়াত খামেনেইর ডান হাত, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির উপর মঙ্গলবার ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজরায়েল। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয়েছে লারজানির। অন্য একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, তিনি গুরুতর আহত। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি হার মানবে ইরান?
২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ ইরানের ৪৮ জন শীর্ষনেতা। পুত্র মোজতবা খামেনেইকে উত্তরসূরি বাছা হলেও একই দিনে গুরুতর আহত হয়ে তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন বলেই খবর। এই অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধে নেতৃত্বে দিচ্ছিলেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানি। মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই লারজানিকে নিকেশ করল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা! এই বিষয়ে দাবি করেছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ। যদিও ইরান এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, শেষবার গত শুক্রবার তেহরানের কুদস দিবসের র্যালি চলাকালীন আলি লারজানিকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। সেদিনই লারজানি-সহ ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের খোঁজ দিলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করে আমেরিকা। পুরস্কার মূল্য ১০ মিলিয়ান ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই নেতাদের নিকেশ করতে আকাশপথে হামলা চালাল ইরান। ইজারেয়ের দাবি, লারজানির পাশাপাশি তাদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। ১৭ দিনের যুদ্ধে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। অবরুদ্ধে হরমুজ প্রণালী। এর জেরে জ্বালানি সংকটে পড়ছে গোটা বিশ্ব। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি হয়নি।
