আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরবর্তী সুপ্রিম লিডার বেছে নিল ইরান। জানা যাচ্ছে, দেশটির তিন সদসস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিল খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামানেইকে এই পদের জন্য বেছে নিয়েছে। তেহরানের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য দিয়েছে।
শনিবার সকালে ইরানে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এই হামলাকে তারা সতর্কতামূলক হামলা হিসাবে ব্যাখ্যা করে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আয়াতোল্লা খামেনেই। তাঁর দপ্তর লক্ষ্য করেই চলে হামলা। পরদিন অর্থাৎ রবিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ঘোষণা করে তাদের অভিযানে খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরে ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর কথা জানায়। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই জল্পনা শুরু হয় তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে। এই গুরুদায়িত্ব কার হাতে উঠবে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। অবশ্য সেই তালিকায় সবার উপরেই ছিলেন খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেই।
বর্তমানে অঘোষিতভাবে ইরানের সবচেয়ে এলিট ফোর্স 'ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড'-এর দায়িত্ব রয়েছে মোজতবার হাতে। পাশাপাশি শিয়া মুসলিম সংগঠনের শীর্ষ পদেও রয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, সুপ্রিম লিডার বেছে নিতে প্রাথমিকভাবে তিন সদস্যের কাউন্সিল গঠন করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়া। তাঁদের হাতেই ছিল যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে থাকা ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। অন্তরবর্তীকালীন সুপ্রিম লিডার ছিলেন আলিরেজা আরাফি। অবশেষে খামেনেই পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবার নামে সিলমোহর দিল এই কমিটি। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে অঘোষিতভাবে ইরানের সবচেয়ে এলিট ফোর্স 'ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড'-এর দায়িত্ব রয়েছে মোজতবার হাতে। পাশাপাশি শিয়া মুসলিম সংগঠনের শীর্ষ পদেও রয়েছেন তিনি।
সরকার তো বটেই ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে মোজতবার বিরাট প্রভাব রয়েছে। আয়াতোল্লার পর দেশের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে বার বার উঠে এসেছেন ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা। গত বছর আয়াতোল্লার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে তাঁর নামই চর্চায় উঠে আসে। প্রত্যাশা মতো এবার তাঁকেই দেশের পরিচালনার ভার দিল বিশেষ কমিটি।
