সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আহমেদাবাদের দগদগে ক্ষত এখনও টাটকা। এরই মাঝে ফের বোয়িং আতঙ্ক জাপানে। এক লহমায় ২৬০০০ ফুট নিচে নামল জাপান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমান। কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর প্রমাদ গুনলেন বিমানে থাকা ১৯১ জন যাত্রী। কপালজোরে শেষ মুহূর্তে চালকের দক্ষতায় রক্ষা পেল বিমানটি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ৩০ জুন সাংহাই পুদং বিমানবন্দর থেকে টোকিওর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বিমানটি। শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। ৩৬০০০ ফুট উচ্চতায় নির্বিঘ্নে উড়ছিল বিমানটি। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হঠাৎ নিচের দিকে নামতে থাকে বিমানটি। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৩৬০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সেটি নেমে আসে ১০,৫০০ ফুটে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। বায়ুর চাপের মাত্রা হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় খুলে দেওয়া হয় অক্সিজেন মাস্ক। সকল যাত্রীকে অক্সিজেন মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয় ক্রুদের তরফে। সেই ঘটনার বেশ কিছু ফুটেজ সামনে এসেছে।
বোয়িং বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জেরে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয় পাইলটের তরফে। জরুরি ভিত্তিতে এরপর জাপানের ওসাকার কানসাই বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানা গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫,০০০ ইয়েন (৯৩ ডলার) দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থার তরফে। মাঝ আকাশে কেন এই ঘটনা ঘটল সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন দুপুরে টেক অফের খানিকক্ষণের মধ্যেই আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান। লন্ডনগামী উড়ানের দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত অবস্থায় ১জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান ছিলেন। এখানে টেকঅফের পর উপরে ওঠার পরিবর্তে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল বিমানটি। ওড়ার ঠিক ৩০ সেকেন্ড পর সেটি ভেঙে পড়ে। সৌভাগ্যবশত এই বিমানটি মাটি থেকে অনেকখানি উপরে থাকায় রক্ষা পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
