ইরান-আমেরিকার মধ্যে কি আদৌ শান্তি ফিরবে? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই নাটকীয় হয়ে উঠছে। একবার শোনা যাচ্ছে, মার্কিন মুলুকের তরফে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে। আবার কখনও ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছে। এহেন ডামাডোলের মধ্যেই শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে সুইজারল্যান্ড রওনা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত শুক্রবার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি।
জানা গিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছে। রবিবার সেখানে পৌঁছবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিনিধি দল। ইরান-আমেরিকার শান্তির লক্ষ্যে ১৪টি শর্তের উপর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। তা সত্ত্বেও লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলি ফৌজ। শুক্রবার সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হওয়ার পরেও শনিবার ফের হামলা হয়েছে।
এই কারণেই শুক্রবার ইরানের সঙ্গে শান্তি বৈঠক বাতিল করেছিলেন ভ্যান্স। তারপর ২৪ ঘণ্টায় তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে জটিলতা আরও বেড়েছে। শান্তিচুক্তির একদিনের মধ্যেই ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। অন্যদিকে, বিশ্বাস ভঙ্গ করছে আমেরিকাও। সেকারণেই আবারও হরমুজ বন্ধ রেখে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান। যদিও আমেরিকার তরফ থেকে জানানো হয়, হরমুজে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে।
এহেন পরিস্থিতি প্রশ্ন উঠছে, শান্তি বৈঠকে আদৌ লাভ হবে কি? মউ সই হওয়ার পরেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার লক্ষ্মণ নেই। ৬০ দিনের মধ্যে কি একমত হয়ে শান্তি ফেরাতে পারবে ইরান এবং আমেরিকা? তেহরানের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শর্ত দিয়েও তা পালন না করার নজির রয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েলের। সেটা যেন এবার না হয়, আলোচনার মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করা হবে। এই বৈঠক অন্তত দু'দিন ধরে চলবে বলে অনুমান। শান্তি ফিরবে কি?
