সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে মৌলবাদীদের জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই গণতান্ত্রিক দেশে। ক্ষমতায় এসেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই জঙ্গি সংগঠনগুলির নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে দেশ জুড়ে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। প্রবল চাপের মুখে পড়ে জেহাদি দলগুলি। তাই এবার সন্ত্রাসের বীজ ছড়িয়ে দিতে নয়া পন্থা নিয়েছে মৌলবাদীরা।
[মসজিদের বাইরে ছবি তোলার অভিযোগ, গণপিটুনিতে মৃত শ্রীনগরের ডিএসপি]
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ঢাকার শিল্পাঞ্চলে জাল ছড়াচ্ছে জঙ্গিরা। ইসলামের নামে নিরীহ খেটে খাওয়া মজদুরদের মগজধোলাই করে ‘জেহাদে’ যোগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণা দিচ্ছে জঙ্গিরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানীর সাভার ও টঙ্গী পোশাক কারখানাগুলির শ্রমিকদের নিশানা করেছে জঙ্গিরা। ধর্মীয় আবেগ ও শিক্ষার অভাবকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে মৌলবাদীরা। সম্প্রতি, ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মফিজুল ইসলাম ওরফে তুষার নামের জেএমবি-র এক সদস্যকে। বৃহস্পতিবার আদালতের সামনে এমনটাই জানিয়েছে ওই জঙ্গি। এছাড়াও সেদিন পুলিশের জালে ধরা পড়ে আরও দুই জঙ্গি।জেএমবি-র একটি গ্রুপ ওই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে জঙ্গিরা। তারা শ্রমিক ও হকারদের দলে ভিড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র্যাব-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, ধৃত জঙ্গিদের জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও হকার-সহ অল্পশিক্ষিত যুবকদের টার্গেট করার কারণ হচ্ছে তাঁদের সহজেই মগজধোলাই করা যায়। জেএমবির শিল্পাঞ্চল গ্রুপের নেতা ছিল ইয়াসিন ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করত সে। তাছাড়া সিরিয়া ও মায়ানমারে নির্যাতিত মুসলমানদের ভিডিও দেখিয়ে মানুষকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও জানিয়েছেন, ধৃত জঙ্গি শোয়েব উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ভণ্ড পীর ও ধর্মগুরুরা ইসলামকে ধ্বংস করছে। তাদের হত্যা করা মুসলিমদের দায়িত্ব। ঢাকায় একটি পীরের মাজারে হামলার পরিকল্পনাও ছিল ওই জঙ্গিদের।
[অন্তিম লগ্ন আসন্ন, পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গল বা চাঁদে পাড়ির সুপারিশ হকিংয়ের ]
The post এবার জঙ্গিদের নিশানায় বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল appeared first on Sangbad Pratidin.
