সস্ত্রীক মার্কিন ভূমে রাজা তৃতীয় চার্লস (King Charles III)। আর সেখানেই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খোঁচা দিতে দেখা গেল তাঁকে। রসিকতা করে তিনি বলেন, ''আমরা না থাকলে আপনারা হয়তো ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।''
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ছিল নৈশভোজ। সেখানেই দুই রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে কথা হয় দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে। আর তখনই আচমকা ট্রাম্পকে খোঁচা দেন চার্লস। আসলে ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, আমেরিকা না থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলি জার্মান ভাষায় কথা বলত। সেই কথাটি যে ব্রিটেন ভালোভাবে নেয়নি তা এদিন পরিষ্কার হয়ে যায়। রাজা তৃতীয় চার্লস ট্রাম্পকে বলেন, ''মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, আমেরিকা না থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলো জার্মান ভাষায় কথা বলত। আমি কি তবে এ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাতে পারি যে, আমরা না থাকলে আপনারা ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন?'' একথায় হাসির ফোয়ারা ওঠে উপস্থিত অভ্যাগতদের মধ্যে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ছিল নৈশভোজ। সেখানেই দুই রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে কথা হয় দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে। আর তখনই আচমকা ট্রাম্পকে খোঁচা দেন চার্লস।
উল্লেখ্য, চার্লসের ইঙ্গিত ছিল আমেরিকার স্বাধীনতারও আগের আমলে। উত্তর আমেরিকায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে সেই সময় ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই দুই শক্তি পুরো মহাদেশ জুড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার হস্তক্ষেপেই জার্মানি পিছু হটে। সেই ফেলে আসা ইতিহাস আবারও ফিরল দুই নেতার মন্তব্যে।
এরই পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় চার্লস বলেন, দুই দেশ একত্রিত হয়ে মানব ইতিহাসের অন্যতম সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ মৈত্রী গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি জোরালো আহ্বান জানান, “আমরা যেন ক্রমশ আরও বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠার আহ্বানগুলোকে উপেক্ষা করি।”
