নিজেদের মানচিত্রে ভারতের অংশ জুড়ে এবার বিতর্ক তৈরি করেছিল নেপাল। কিন্তু অবশেষে চাপে পড়ে পিছু হটল কাঠমান্ডু। নতুন যে একটাকার মুদ্রায় সেই মানচিত্রকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানির পরিবর্তে সেখানে একটি বৌদ্ধ মঠকে দেখানো হয়েছে। তবে বাজারে এখনও রয়ে গিয়েছে পুরনো ২ টাকার মুদ্রা। সেখানে অবশ্য বিভ্রান্তিকর মানচিত্রটি দৃশ্যমান।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের মে মাসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানচিত্র আপডেট করে। সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে কালাপানি, লিপুলেক এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নেপালের মানচিত্রে যুক্ত করা হয়। নেপালের এই মানচিত্র বদলের প্রসঙ্গে প্রতিবাদ জানায় ভারত। লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল ভারতের অংশ হিসেবে দাবি করা হয়েছে বার বার। ওই পরিস্থিতিতে ভারত জানায় নেপালের সংশোধিত ওই মানচিত্র ‘একতরফা কাজ’। ভারতের দাবি ছিল, এই ঘটনা আসলে জোর করে দেশের সীমান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা। ভারতের সঙ্গে নেপালের এক হাজার ৮৫০ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত রয়েছে। ভারতের পাঁচ রাজ্য অর্থাৎ সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, এবং উত্তরাখন্ডের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে।
অবশেষে এবার বদলে গেল নতুন একটাকার মুদ্রা। সেখানে ওই বিতর্কিত অংশকে না দেখিয়ে বরং একটি বৌদ্ধ মঠের ছবি দেওয়া হয়েছে। মুস্তাং জেলার মারাং গ্রামে অবস্থিত লো ঘাইকার মঠটি নেপালের প্রাচীনতম বৌদ্ধ মঠগুলির মধ্যে অন্যতম।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির সিনিয়র নেতা ভীম রাওয়াল। যিনি মানচিত্র সরানো নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর কথায়, "প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি সত্যিই এক টাকার মুদ্রা থেকে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি-সহ নেপালের মানচিত্র অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এটিকে লো ঘিয়াকার মঠের চিত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা আরেকটি গুরুতর দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত। যা নেপালের আঞ্চলিক অখণ্ডতার উপর আঘাত।"
