সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মালয়েশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান এমএইচ-১৭ ধ্বংসের নেপথ্যে রয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। বিস্ফোরক দাবি করলেন দুর্ঘটনার তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, যে মিসাইলের আঘাতে বিমানটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায় সেটি সরবরাহ করেছিল রুশ সেনার একটি মিসাইল ইউনিট।
[‘আমার মতো মার্কশিটের ছবি পোস্ট করুন’, মোদিকে চ্যালেঞ্জ কংগ্রেস নেতার]
২০১৪ সালের জুলাই মাসে অ্যামস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরগামী এমএইচ-১৭ যাত্রীবাহী বিমানটির উপর মিসাইল হামলা হয়। পূর্ব ইউক্রেনে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ওই ঘটনায় নিহত হন ২৯৮ জন যাত্রী ও চালকদের সবাই। ওই ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায় বিশ্বজুড়ে। অভিযোগ উঠে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। দাবি করা হয়, ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীরাই এই কাজ করেছে। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলির এই অভিযোগ খারিজ করে দেয় মস্কো। তবে ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে ডাচ বিশেষজ্ঞরাও বলেছিলেন যে তারা ঘটনাস্থলে এমন কিছু টুকরো পেয়েছেন যা সম্ভবত রাশিয়ায় তৈরি ‘বাক’ জাতীয় ভূমি-থেকে-আকাশে হামলায় সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো।
হামলার নেপথ্যে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে মার্কিন ও জার্মান গোয়েন্দারাও দাবি করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের শেষে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার জড়িত থাকার কথা ঘোষণা করে তদন্তকারী দলটি। তাঁরা জানান, রুশ সেনাবাহিনীর ৫৩তম বিমান বিধ্বংসী মিসাইল ব্রিগেড থেকে ওই মিসাইল সরবরাহ করা হয়েছিল। কনভয়ের মাধ্যমে কিভাবে মিসাইলগুলি পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে তদন্তকারীরা কিছু ছবিও প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে এই হামলার নেপথ্যে যে রাশিয়া রয়েছে তা স্পষ্ট বলেই দাবি করেন তাঁরা।
তবে আন্তর্জাতিক যুগ্ম-তদন্তকারী দলের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের পালটা দাবি, কোনও বাক মিসাইল ইউক্রেন সীমান্ত পার করেনি। সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই হামলায় কোনওভাবেই রাশিয়া জড়িত নয়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছিল রুশপন্থী বিদ্রোহীদের। তাদের মদত দিচ্ছিল মস্কো। প্রাক্তন সোভিয়েত দেশটির রুশ জনবহুল এলাকাগুলি রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তির লড়াই অবশ্য আজও চলছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি স্বাভাবিকভাবে চাপে পড়েছে মস্কো।
[নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কী উপসর্গ দেখা দেয়? কীভাবে মোকাবিলা করবেন?]
The post রুশ মিসাইলেই ধ্বংস এমএইচ-১৭, বিস্ফোরক দাবি তদন্তকারীদের appeared first on Sangbad Pratidin.
