অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ও তাদের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে ভারতের সেনা। সেই 'ব্যথা' এখনও যায়নি। তার প্রমাণ মিলল ফের। জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার খেপে গেল পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপরে। তার দাবি, সিঁদুরের সময় জইশের পিঠে ছুরি মেরেছে পাকিস্তান।
কিন্তু একথা কেন বলছে মাসুদ? আসলে জইশ অভিযোগ করেছে, ৭ মে, ২০২৫-এ বাহাওয়ালপুরে ভারতের হামলার সময় পাক সেনা তাদের সহায়তা কররেনি। সূত্র থেকে আরও জানা গিয়েছে যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ খতম জঙ্গিরা এবং হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারদের ঘনিষ্ঠরা পরে সামরিক সম্মান পেলেও, হামলার সময় তাদের সরাসরি উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রসঙ্গত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ সদর দপ্তরে হামলা চালায়। মাসুদ আজহার নিজেই স্বীকার করেছে যে, এই হামলায় তার পরিবারের ১০ জন সদস্য এবং চারজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হয়েছে।
জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার খেপে গেল পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপরে। তার দাবি, সিঁদুরের সময় জইশের পিঠে ছুরি মেরেছে পাকিস্তান।
জইশের দাবি, পাক সেনা নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিল। পাক সেনা কর্তারা অনেকেই তাতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু হামলার সময় সেই সক্রিয়তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। এখানেই শেষ নয়। মাসুদ আজহারের আরও অভিযোগ, দিল্লি, কাবুল, কান্দাহারে তাদের ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। অথচ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ তাদের মরতে ছেড়ে দিয়েছে। সকলেরই জানা, পাকিস্তানের সেনা ও আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ মদত পায় বহু জঙ্গি গোষ্ঠী। কিন্তু এবার সরাসরি এই দোষারোপ শুরু হওয়ায় বিস্মিত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
বলে রাখা ভালো, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের বাড়ি। বিস্ফোরণে মারা যায় আজহারের পরিবারের ১৪ সদস্য। এটা যে কোনও ফাঁকা দাবি নয়, বরং একেবারে সত্যি ঘটনা তা মেনে নেয় জইশ শীর্ষ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি! পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ মৃত্যুর বদলা নিতে ৬ মে গভীর রাতে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জায়গার জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলায় বাহওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদ, মুরাক্কায় লস্কর-ই-তইবা ও হিজবুল মুজাহিদিনের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। খতম হয়েছিল বহু জেহাদি। সেই 'ঘা' যে এখনও শুকোয়নি তা পরিষ্কার হয়ে গেল মাসুদ আজহারের মন্তব্যে।
