বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর সেই দীর্ঘ তালিকায় ‘জামাইষষ্ঠী’ এক অনন্য উৎসব। বাঙালি সংস্কৃতির এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ! জামাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় শাশুড়িমায়েদের এই ব্রতপালন যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ্দুর। আর আম-কাঁঠালের গন্ধে ম ম করা দুপুর। জামাই আদরের সেই চিরচেনা ছবি এবারও ফিরছে বঙ্গে। জামাইষষ্ঠী কবে? তিথি শুরু হচ্ছে কখন? এই উৎসবের সামাজিক প্রেক্ষাপটই বা কী?
প্রতীকী ছবি
কবে জামাইষষ্ঠী?
পঞ্জিকা মতে, চলতি বছর জামাইষষ্ঠী পালিত হবে আগামী ২০ জুন (৫ আষাঢ়), শনিবার। মূলত জ্যৈষ্ঠ মাসে এই উৎসব পালিত হলেও এবার তিথি অনুযায়ী দিনটি পড়েছে আষাঢ়ের শুরুতে।
ষষ্ঠী তিথি শুরু: ১৯ জুন, রাত ১০টা ১৬ মিনিটে।
ষষ্ঠী তিথি সমাপ্ত: ২০ জুন, রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে।
উৎসবের রীতিনীতি ও উপকরণ
জামাইষষ্ঠীর সকালে শাশুড়িরা উপবাস থেকে মা ষষ্ঠীর পুজো দেন। নিয়ম মেনে চলে জামাইকে ধান, ১০৮টি দুর্বা, তালের পাখা ও বাঁশের করুল দিয়ে আশীর্বাদ করার পালা। এই উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হল মরশুমি ফল। কাঁঠাল, আম, লিচু আর করমচার ডালা সাজিয়ে চলে জামাই বরণ। নতুন বস্ত্র আর উপহার আদান-প্রদানে শ্বশুরবাড়িতে হুল্লোড় পড়ে যায়। মধ্যাহ্নভোজের পাতে থাকে ইলিশ, খাসির মাংস থেকে শুরু করে হরেক পদের আয়োজন।
প্রতীকী ছবি
লোককথা ও সামাজিক গুরুত্ব
এই উৎসবের নেপথ্যে রয়েছে চমৎকার এক সামাজিক প্রেক্ষাপট। কথিত আছে, প্রাচীনকালে কন্যা সন্তান পুত্রবতী না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মা মেয়ের বাড়ি যেতেন না। সেই সংস্কার মেনে জ্যৈষ্ঠের এই বিশেষ তিথিতে জামাইকে নিমন্ত্রণ করা হত, যাতে মেয়ের মুখ দর্শন করা যায়। মূলত কুল রক্ষা এবং সন্তানের মঙ্গলে দেবী ষষ্ঠীর আরাধনাই এই ব্রতের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে সময়ের চাকায় রীতিনীতির রূপ অনেকটাই বদলেছে। ব্যস্ততার যুগে ঘরে রান্নার বদলে অনেকেই এখন রেস্তরাঁর বিশেষ ‘জামাইষষ্ঠী থালি’তে ভরসা রাখছেন। তবে জৌলুস কমেনি এক ফোঁটাও। আজও জ্যৈষ্ঠের এই তিথিটি বাঙালির পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। জামাইষষ্ঠী মানেই তো পরম আদরে আর ভূরিভোজের তৃপ্তিতে মেতে ওঠা এক রঙিন দিন।
