ইরান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরমাণু নীতি বদল উত্তর কোরিয়ার। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যদি বিদেশি রাষ্ট্রের হামলায় উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জন উনের মৃত্যু হয় তবে পালটা পরমাণু হামলা চালাবে দেশটি। এই পরমাণু হামলায় যাতে কোনও আইনি বাধা না আসে সে কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি, কোনও দেশ যাতে তাদের উপর আক্রমণ চালানোর দুঃসাহস না দেখায়, এই পদক্ষেপ তার আগাম সতর্কবার্তা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার ১৫ তম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে পরমাণু নীতি বদলের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এবং নীতি বদলের এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেন সেখানকার প্রশাসনিক কর্তারা। নয়া নীতিতে বলা হয়েছে, দেশের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবেন দেশটির শাসক কিম জন উন। তাঁর উপর যদি কোনওরকম হামলা হয় তবে কী কী পদক্ষেপ করা হবে সে বিষয়ে বিশদে জানানো হয়েছে নয়া নীতিতে।
পরমাণু নীতির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি দেশের পরমাণু কর্মসূচি, পরমাণু গবেষণার মতো ক্ষেত্রে হামলা চালান হয় তবে শত্রুর উপর পালটা পরমাণু হামলা চালাতে কোনও বাধা থাকবে না।
নয়া পরমাণু নীতির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি দেশের পরমাণু কর্মসূচি, পরমাণু গবেষণার মতো ক্ষেত্রে হামলা চালান হয় তবে শত্রুর উপর পালটা পরমাণু হামলা চালাতে কোনও বাধা থাকবে না। নয়া নীতিতে আরও বলা হয়েছে, যদি বিদেশি শক্তির হামলায় দেশের শাসকের মৃত্যু হয় বা তিনি অক্ষম হয়ে পড়েন তবে পালটা শত্রুর উপর পরমাণু হামলা চালাবে দেশটি। জানা যাচ্ছে, ইরান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পদক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই এই পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা। যার জেরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। উত্তর কোরিয়াতেও দীর্ঘদিন ধরে নজর রয়েছে আমেরিকাও। তবে দেশটি পরমাণু শক্তিধর হওয়ায় সরাসরি হামলার মতো ঝুঁকি আমেরিকা নেয়নি। মনে করা হচ্ছে, ইরান পরিস্থিতি যাতে উত্তর কোরিয়ায় তৈরি না হয় সে কথা মাথায় রেখেই পরমাণু নীতি বদল করলেন দেশটির শাসক কিম জন উন।
